শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। শিমুলের মূল খাওয়ার উপকার ও এর বহুবিধ ব্যবহার বহু প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশ তথা ভারত বর্ষের বিভিন্ন দেশে লক্ষ্য করা যায়। তৎকালীন সময় থেকেই ইউনানী, কবিরাজি ও আয়ুর্বেদিক ঔষধ প্রস্তুতে শিমুল মূলের ব্যবহার লক্ষণীয়। বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে যে ভেষজ চিকিৎসায় শিমুলের মূল বহুবিধ ঔষধি গুণে গুনানিত।
যৌন চিকিৎসায় অনেক উপকারি সে জন্য শিমুল মূলকে ন্যাচারাল ভায়াগ্রা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মানব কল্যাণে শিমুল মূলের বহুবিধ উপকারের কথা আমি আজকের এই পোস্টে আলোচনা করব। ধৈর্য সহকারে পুরা পোস্টটি পড়লে আপনিও জানতে পারবেন শিমুলের মূল খাওয়ার উপকার ও জাদুকরি বহুবিধ গুণের কথা।
পেজ সুচিপত্র
১.শিমুলের মূল খাওয়ার উপকারিতা
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা! শিমুলের মূল হাজারো ঔষধিগুণ সমৃদ্ধ। এই শিমুলের মূল খাওয়ার উপকার যে কথা বলে শেষ করার নয়। শিমুলের মূল মানব কল্যাণে বহুবিধ উপকার করে থাকেে শিমুলের মূল খাওয়ার উপকার বা বহুবিধ গুনের জন্য ইউনানী, কবিরাজি ও আয়ুর্বেদিক ঔষধ তৈরিতে এর ব্যপক গুরুত্ব রয়েছে।
এই শিমুল গাছের মুলগুলো পুরুষের যৌন রোগ, মহিলাদের শ্বেত রোগ,দাঁত ও মাড়ি শক্ত করা, ফোড়া বা ক্ষত সারাতে, আমাশা বা ডায়রিয়া, স্নায়ুবিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন রোগের উপশম করে থাকে। বাজারে শিমুল তুলার অনেক কদর রয়েছে। শিমুল তুলা দিয়ে বালিশ ও লেপ তৈরি করা হয়।
শিমুলের বিচি দিয়ে বালিশ বানিয়ে সেই বালিশে ছোট সোনামনিদের মাথার দিয়ে শোয়ালে মাথার গঠন গোলগাল সুন্দর হয়। শিমুলের মূল খাওয়ার উপকারগুলো নিম্নে পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হলো।
- পুরুষ যৌন সমস্যা দূর করে,
- মেয়েদের সাদা স্রাব দূর করে,
- স্নায়োবিক দুর্বলতা দূর করে,
- রক্ত আমাশয় নিরাময় করে,
- ফোঁড়া বা ক্ষতস্থান ভালো করে,
- দাঁত ও মাড়ি শক্ত করে,
- কাঁচা খেলে উপকার হয় শিমুল মূল,
- দৃশক্তি বৃদ্ধি করে,
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে,
- হজম শক্তি বৃদ্ধি করে,
- খনিজ পদার্থ সরবরাহ করে,
- রক্তশূন্যতা দূর করে,
- ব্যথা নিরাময় করে,
- শারীরিক স্বক্ষমতা বাড়ায়,
- কাশি নিরাময় করে,
- যৌবন ধরে রাখে,
- রূপচর্চায় উপকার পাওয়া যায়। ইত্যাদি।
উক্ত উপকারিগুণগুলো সংক্ষিপ্ত আকারে নিম্নে পর্যায়ক্রমে বর্ণনা করা হলো -
২.পুরুষের যৌন সমস্যা সমাধানে শিমুল মূলের উপকারিতা
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতার মধ্যে অন্যতম একটি হলো যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি। শিমুল মূল পুরুষের ভায়াগ্রা খ্যাত যৌন টনিক। এর উপকারিগুনের কথা বলে শেষ করার নয় । এই শিমুল গাছের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ( শিকড় বা মুল, ফুল, ছাল, গুটি, বীজ) মানব কল্যাণে উপকারে আসে। অনেক পুরুষের বীর্য পাতলা হওয়ার কারণে ইজাকুলেশন টাইম কম হয় বা দ্রুত বীর্য্যপাত হয়ে তাড়াতাড়ি লিঙ্গ পতন বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন ঘটে। শিমুল মূল এই বীর্য গাড় করে ইজাকুলেশান টাইম বাড়ায় বা দ্রুত বীর্যপাত রোধ করে।
আরও পড়ুনঃ এডিস মশা ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে করণীয় কি
অনেক সময় ধরে লিঙ্গ উত্থান রাখতে সহায়তা করে। এতে করে স্ত্রী সহবাসে পরিপূর্ণ তৃপ্তি পাওয়া যায়।পুরুষত্ব বা যৌন ক্ষমতা পরিপূর্ণ করার জন্য কচি শিমুল মূল চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে অথবা দুধের সাথে শিমুল মূলের গুড়া, তেতুলের বিচির গুড়া ও অর্শ্বগন্ধা বা শতমূলের গুড়া পরিমাণমত একসঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত খেতে হবে। এছাড়াও পুরুষের যৌন সংক্রান্ত আরো কিছু রোগ থেকে মুক্তি দেয় এই শিমুলের মূল।
শিমুল মূল ---
- পুরুষের যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- শুক্রাশয়ের কার্যকারিতা বাড়ায়।
- শুক্রানুর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
- শুক্রাণুর গতিশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
- বীর্য বৃদ্ধি করে ।
- দীর্ঘ সময় বীর্য ধরে রাখতে সহায়তা করা।
- টেস্টেস্টেরন হরমোন বৃদ্ধি করে যা পুরুষের যৌন ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে ।
৩.মেয়েদের সাদা স্রাব বা শ্বেত প্রদাহ ভালো করতে শিমুলের মূলের উপকারিতা
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতার মধ্যে একটি হলো মেয়েদের সাদা স্রাব বা শ্বেত প্রবাহ ও ঋতুস্রাব নিরাময় করে। দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায় মা-বোনসহ অনেক মহিলারা এই রোগগুলোতে ভুগছেন। ঐ সকল মহিলারা যদি নিয়ম মেনে প্রতিদিন কাঁচা মূল অথবা শিমুল মূলের গুড়া কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত খান তাহলে এই রোগগুলো থেকে নিরাময় পাওয়া যায়। এছাড়াও মেয়েদের আরো কিছু রোগ থেকে মুক্তি দেয় এই শিমুল মূল।
আরও পড়ুনঃ ২০২৪ সালের সরকারি ছুটির তালিকা সমুহ
শিমুল মূল --- দুগ্ধ দানকারী মাদের বুকের দুগ্ধ বাড়াতে সহায়তা করে।
- মাসিকের সময় অতিরিক্ত পেট ব্যথা দূর করে।
- অতিরিক্ত ঋতুস্রাব নিয়ন্ত্রণ করে।
- অতিরিক্ত সাদা স্রাব বা শ্বেত প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- অনিয়মিত হায়ায-নেফাজকে নিয়মিত হতে সহায়তা করে।
৪.স্নায়োবিক দুর্বলতা দূর করতে শিমুল মূলের ব্যবহার
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতার মধ্যে অন্যতমএকটি হলো স্নায়বিক দুর্বলতা দূর করে। শিমুলের মূল প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় বিভিন্ন রকমের মেনারেলস, খনিজ পদার্থ, কার্বোহাইডেট, প্রোটিন ও এন্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ।
এই উল্লেখিত ভিটামিনগুলো আমাদের শরীরের দৈহিক শক্তির যোগান দেয় অর্থাৎ স্নায়োবিক দুর্বলতা দূর করে, পেশি শক্তি বৃদ্ধি করে ও কাজে মনোযোগী হতে সহায়তা করে। যার কারণে দেহ ও মনে থাকে চাঙ্গা ভাব। স্নায়োবিক শক্তি বৃদ্ধির কারণে মেজাজ থাকে ফুরফুরে। শিমুলের মূল খেয়ে উপকার পুরোপুরি পেতে হলে নিয়মিত খেতে হবে।
৫.রক্ত আমাশায় নিরাময়ে শিমুলের মূলের উপকারিতা
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা ও ঔষধিগুণের মধ্যে আরেকটি উপকার হলো পেটের পিড়া দূর করে। যাদের ঘন ঘন রক্ত আমাশায়, ডায়রিয়া, পেট খারাপ বা বদহজম হয় তারা যদি নিয়মিত শিমুলের কচি মূল চিবিয়ে খান অথবা পরিমাণমত শিমুল মূলের গুঁড়া ছাগলের উষ্ণ গরম দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ খেলে উক্ত রোগগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
৬.ফোঁড়া বা ক্ষতস্থান ভালো করতে শিমুল মূলের ব্যবহার
শিমুলের মূল খাওয়ার উপকারিতা অনেক, আবার অনেক ঔষধিগুনের মধ্যে অন্যতম ঔষধি গুণ হল এন্ট্রিইনফ্লামেটরি ও এন্ট্রিব্যাকটেরিয়াল ইফেক্ট যা ক্ষতস্থান বা ফোঁড়া ভালো করে। অনেক মানুষের শরীরে প্রায়শই ফোঁড়া বা ফোঁট হয় এবং খুব যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা করে।
আরও পড়ুনঃ ভিটামিন ই ক্যাপসুল মুখে ব্যবহারের নিয়ম
এই ফোঁট বা ফোঁড়াতে শিমুলের মূল পাটাতে বেটে বা ছেঁচে বা পেস্ট করে লাগিয়ে দিলে খুব দ্রুত যন্ত্রণাদায়ক ব্যথা নিরাময় করে ও ক্ষতস্থান শুকিয়ে যায়। এভাবে কয়েক দিনে নিয়মিত লাগাতে ব্যাবহার করতে হবে
৭.দাঁত ও মাড়ি শক্ত করতে শিমুল মূলের ব্যবহার
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা পড়ুন। শিমুল মূলের এন্ট্রিইনক্লামেটরি ইফেক্ট থাকার কারণে দাঁতের ব্যথা দূর করে,দাঁত ও মাড়ি মজবুত বা শক্ত করে। অনেক সময় দাঁত বা মাড়িতে ইনফেকশন হলে অসহ্য ব্যথা করে ও ক্ষতের সৃষ্টি করে। সতেজ বা কাঁচা শিমুল মূলের এন্ট্রিইনক্লামেটরি ও এন্ট্রিব্যাকটেরিয়াল ইফেক্ট এর কারণে ব্যথা উপশম করে ও ইনফেকশন বা ক্ষত ভালো হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ দ্রুত ওজন কমানোর ১০ টি সহজ উপায়।
৮.শিমুলের মূল কাঁচা খাওয়ার উপকারিতা
শিমুল মূলগুলো নানাগুণে গুণান্বিত ও পুষ্টিমান সমৃদ্ধ। এই শিমুলের কচি বা ছোট গাছগুলো সাধারণত গ্রামাঞ্চলেই বেশিরভাগ পাওয়া যায। শহর অঞ্চলে পাওয়া যায় না বললেই চলে। বর্ষাকালে ঝোপে জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে এই ছোট ছোট শিমুল গাছগুলো জন্মে থাকে।
আরও পড়ুনঃ বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও নিয়ম।
এই কচি গাছগুলো টান দিয়ে তুললে লম্বা লম্বা শিকড় বা মূল পাওয়া যায়। এই মূনগুলো পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে কাঁচা অবস্থায় খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। শিমুল মূল কাঁচা অবস্থায় খেলে নিম্নোক্ত উপরকারগুলো বেশি পাওয়া যায়.
৯.দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি
শিমুল মুলে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন এ দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ও রাতকানা রোগ উপশম করে।
১০.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
শিমুলের মূলে পর্যাপ্ত পরিমনে ভিটামিন সি থাকে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং সর্দি কাশি ও বিভিন্ন রকমের ফ্লু জাতীয় রোগ দূর করে।
১১.হজম শক্তি বৃদ্ধি
শিমুল মূলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকে যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও মলত্যাগ সহজ করে।
১২.খনিজ পদার্থ
কাঁচা শিমুল মূলে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ পদার্থ যা মানব শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় ও হাড়ের গঠনকে মজবুত করে।
১৩.রক্তশূন্যতা দূরীকরণ
কাঁচা শিমুল মূলে থাকা পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন মানব দেহের রক্তশূন্যতা দূর করে ও নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করা।
১৪.ব্যথা নিরাময় করে
কাঁচা শিমুল মূলের এন্ট্রিইনফ্লামেটরি ইফেক্টের কারণে মাথা ব্যথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যথা দূর করে ও বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা নিরাময় করে।
১৫.শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়
কাঁচা শিমুল মূলে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি দূর করে দেহের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
১৬.কাশি নিরাময় করে
শিমুলের মূল বেটে বা ছেঁচে বা পেস্ট করে লেবুর রসের সাথে মিশিয়ে দু'বেলা খেলে কাশি উপশম করে ও 'সর্দি ভালো হয়।
১৭.পৌঢ় কাল পর্যন্ত যৌবন ধরে রাখতে শিমুল মূলের ব্যবহার
শিমুল মূলের অনেকগুলো গুনের মধ্যে একটি পুষ্টিগুণ হল ইস্ট্রোজেন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করে, বীর্য গাড়ো করে, বীর্য বৃদ্ধি করে, পুরুষ অঙ্গ শক্ত করে, ব্রণ, দাগ, মেছতা দূর করে চেহারা সুন্দর করে, চুল লম্বা, ঘন ও কালো করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেহকে সুস্থ ও রোগ মুক্ত করে। সবকিছু মিলিয়ে আপনার চেহারার মধ্যে একটা যৌবনাত্মক ভাব ফুটিয়ে তুলে। এতে করে পৌঢ় কালেও মনে হবে আপনি অনেক ইয়াং, এনার্জিটিক, প্রাণবন্ত ও সেক্সচুয়ালি এনরিসড্।
১৮.রূপচর্চায় শিমুল মূলের ব্যবহার
শিমুলের মূল খাওয়ার উপকারীতা ও গুণের শেষ নেই! মুখমণ্ডলে ব্রন হলে অথবা মেছতা পড়লে শিমুলের মূল বেঁটে বা ছেঁচে দুধের সাথে মিশিয়ে দুবেলা ঐ ব্রন ও মেছতার উপরে লাগালে দিনে দিনে ব্রন ভালো হয়ে যায় ও মেছতার দাগ রিমুভ করে মুখমণ্ডলকে করে তোলে সুন্দর, সুশ্রী ও উজ্জ্বল। তাই রূপচর্চার শিমুল মূলের বিকল্প নেই। এছাড়াও ত্বকের অন্যান্য সমস্যা যেমন চুলকানিতেও শিমুল মূল খুব উপকারী।
১৯.বাসি বা খালি পেটে শিমুল মূল খাওয়ার উপকারিতা
শিমুল মূল ভেজষ সব ঔষুধি গুণসম্পন্ন একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান যা বাসি পেটে বা খালি পেটে অথবা ভরা পেটে যে কোন অবস্থাতেই খাওয়া যায়। বিভিন্ন আলোচনা-পরযালোনো থেকে দেখা গেছে যে খালি পেটে খেলে এর উপকার বেশি। শিমুলের কাঁচা মূল খালি পেটে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায় আবার শিমুল মূলের গুড়া খালি পেটে খেলেও উপকার পাওয়া যায়। শুধু গুড়তো আর খাওয়া যায় না তাই গুড়া কুসুম গরম পানির সাথে অথবা কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হয়।
২০.শিমুল মূলের পাউডার বা গুঁড়া খাওয়ার নিয়ম
শিমুলের মূল খাওয়ার উপকারিতা বা ভেষজগুনের কথা লিখতে লিখতে বা পড়তে পড়তে সময় পার হয়ে যাবে কিন্তু এর পুষ্টিগুণের কথা শেষ হবে না! এত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ শিমুল মূল বা শিমুল মূলের গুড়া খাওয়ার কিছুটা নিয়মকানুন অবলম্বন করতে হয়। মেডিকেল সাইন্সের তথা পুষ্টি বিজ্ঞানীদের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪০০ মিলিগ্রাম পার কেজি বডি ওয়েট অনুসারে শিমুল মূলের গুড়া খেতে হয় অর্থাৎ যদি কারো বডিওয়েট ৬৫ কেজি হয় তাহলে তিনি প্রতিদিন ২৬ গ্রাম
শিমুল মূলের গুড়া খেতে পারবেন। আর কচি মূল খেতে পারবেন ২ থেকে ৪ ইঞ্চি পরিমাণ। আপনার জন্য প্রযোজ্য পরিমাণ শিমুল মূলের গুড়া কুসুম গরম পানি বা কুসুম গরম দুধ অথবা পরিমাণ মত মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন। উল্লেখ্য বেশি উপকার পাওয়ার জন্য ছাগলের দুধ বা মধুর সাথে মিশিয়ে খাওয়াই শ্রেয়। এভাবে দুই থেকে তিন সপ্তাহ একটানা খেতে হয়। এছাড়াও এক থেকে দুই চা চামচ শিমুলের গুঁড়া এক গ্লাস পানিতে বা দুধে অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারবেন।
২১.শিমুন মূলের দাম কত ও কোথায় পাওয়া যায়
শিমুল মূলের বর্তমান সময়ে অনেক চাহিদা থাকার কারণে বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন শুরু হয়েছে। শিমুল মূল কাঁচা খাওয়া বেশি উপকারী। শিমুল মূল বাড়িতে গুড়া করে সংরক্ষণ করা ভালো। যদি বাড়িতে গুড়া করে সংরক্ষণ করতে না পারেন তাহলে বাজার থেকে কিনে এনে সংরক্ষণ করতে হবে।বর্তমানে শিমুল মূলের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে এর দাম একটু বেশি! প্রতি গ্রাম শিমুল মূলের গুঁড়া বা পাউডার আড়াইশো থেকে তিনশত টাকা দরে বাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি হয়ে থাকে।
২২.শিমুলের মূলের পরিচিতি
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা সম্পর্কে জানার আগে এর পরিচিতি সম্পর্কে জানা দরকার। শিমুল মূল মূলত: শিমুল গাছের মূলকে বলা হয়ে থাকে। শিমুল গাছ বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকাতেই পাওয়া যায়। এটি সাধারণত পুকুর বা নদীর কিনারায়,পাহাড়ের পাশে এবং প্রাকৃতিক জঙ্গল উপস্থিতির এলাকায় জন্মে থাকে। শিমুল ফুল সাধারণত সদ্য ফুটন্ত অবস্থায় সাদা বা হালকা সবুজ বর্ণের হয়। সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয়ে পরিপূর্ণ ফুলে পরিণত হলে এর পাপড়িগুলো গাড়ো লাল বর্ণ ধারণ করে যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশের প্রায় ২০০ প্রজাতির শিমুল গাছ পাওয়া যায়। শিমুল গাছের আরেকটি নাম হল বোম্বক্স, ইংরেজিতে বলা হয় সিল্ক কটন ও ইউনানী শাস্ত্রে সেম্ভল নামে পরিচিত। শিমুল গাছগুলো ১০ থেকে ৫০ ফুট উচ্চ হয়। ছোট অবস্থায় গাছে গায়ে বড় বড় কাটা থাকে, গাছগুলো বড় হওয়ার সাথে সাথে এই কাটাগুলো কমে যায়। এই শিমুল গাছের শিকড় বা মূলকেই শিমুল মূল নামে অবিহিত করা হয়েছে।
২৩.শিমুলের মূলের পুষ্টিগুণ ও পুষ্টিমান
শিমুলের মূল খাওয়ার ২৪ টি উপকারিতা সম্পর্কে জানতে গিয়ে আমাদের একটু জানা দরকার শিমুল মূলের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে। শিমুলের মূল মানবদেহের নানাবিধ উপকার করে থাকে। শিমুলের মূল খাওয়ার উপকার বা পুষ্টিগুণ সেটি মূলত ছোট বা কচি শিমুল গাছের মূল বা শিকড় থেকেই পাওয়া যায়। এই উপকার করার জন্য যে খনিজ ও পুষ্টিগুলো শিমুল মূলে বিদ্যমান আছে নিম্নে ঐ পুষ্টগুলোর পরিমান আলোকপাত করা হলো
শিমুল মূলে --
- সেলুলোর আছে শতকরা ০২ ভাগ
- সুগার আছে শতকরা ৮.২ ভাগ
- প্রোটিন আছে শতকরা ১.২ ভাগ
- ট্যানিন আছে শতকরা ০.৯ ভাগ
- ক্যালসিয়াম আছে শতকরা ০.৯৩ ভাগ
- স্টার্ট আছে শতকরা ৭১.২ ভাগ
- চর্বি আছে শতকরা ০.৯ ভাগ
- খনিজ আছে শতকরা ২.১ ভাগ
- জলীয় অংশ বা আদ্রতা আছে শতকরা ৭.৫ ভাগ। ইত্যাদি।
২৪.শিমুল মূল ব্যবহারের সতর্কতা
শিমুল মূল হাজারো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ভেষজ ঔষধিগুণ সম্পন্ন একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান যা আমাদের শরীরে অনেক উপকার করে। এত প্রাকৃতিক ঔষধি গুণসম্পন্ন জাদুকরি শিমুল মূল খাবার ব্যাপারে আমাদেরকে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভালো লাগলেই বা বেশি উপকার পেলেই, বেশি বেশি খাওয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত কোন কিছুই ভালো নয়। প্রাকৃতিকগুণ সম্পন্ন শিমুল মূল খাওয়ার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে খাওয়া উচিত। শিমুল মূল বা গুড়া খাওয়ার সতর্কতাগুলো নিম্নরূপ -
- শিমুল মূল গর্ভাবস্থায় খাওয়া উচিত না।
- শিমুল মূল বেশি পরিমাণে খেলে মাথা ঘোরে।
- শিমুল মূল বেশি খেলে বমির ভাব হতে পারে।
- শিমুল মূল বেশি পরিমাণে খেলে জ্বর জ্বর ভাব হতে পারে।
- শিমুল মূল বেশি পরিমাণে খেলে পাতলা পায়খানা হতে পারে।
- শিমুল মূল বেশি পরিমাণে খেলে স্কিন লাল হয়ে যেতে পারে।
- শিমুল মূল বেশি পরিমাণ খেলে ইচিং হতে পারে।
উপসংহার
শিমুলের মূল সম্পর্কে যাবতীয় জাদুকরীগুনের কথা এতক্ষণে এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা জেনে গেছেন। ন্যাচারাল ভায়াগ্রা খ্যাত শিমুলের মূল থেকে শুরু করে এই গাছের যাবতীয় অংশ অর্থাৎ ছাল-বাকল, পাতা ও ফুল-ফলের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য। সবকিছুর মধ্যে রয়েছে ঔষুধি গুন। ফুল থেকে উৎপাদিত তুলা দিয়ে তৈরি হয় গরম লেপ ও বালিশ।
শিমুল তুলা উৎপাদনকারী শিমুল অর্থকারী ফসলও বটে। সতর্কতা অবলম্বন করে এই শিমুল মূল ও গুড়া বা পাউডার খেয়ে সুস্থ ও সুন্দর থাকবেন এটাই আমার কাম্য। আজকের এই লেখাটি পড়ে আপনারা যদি সামান্যতম উপকৃত হন তাহলে আমি আমার কষ্ট করে লেখাটাকে সার্থক বলে মনে করব।
Nice