গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। গর্ভাবস্থায় মা-বোনদের একটু বেশি পরিমাণে সব ধরনের খাবার গ্রহণের প্রয়োজন। এ সময় আরো প্রয়োজন হয় পুষ্টিকর ফলমূল খাওয়ার। যেগুলো গর্ভবতী মা ও গর্ভের সন্তানের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে। গর্ভাবস্থায় সতেজ ও টাটকা ফলমূল খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয় তবে কিছু কিছু ফলের ক্ষেত্রে রয়েছে সতর্কতা। কামরাঙ্গা সেই ফলগুলোর মধ্যে একটি।
কামরাঙ্গা পুষ্টিগুণে ভরপুর টক-মিষ্টি স্বাদের একটি লোভনীয় ফল। এই ফলটি টক স্বাদযুক্ত হওয়ায় অনেক মা-বোনদের কাছেই প্রিয়। আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন বহু পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ কামরাঙ্গা গর্ভাবস্থায় খাওয়া নিরাপদ কি না, উপকারিতা ও ঝুঁকি সম্পর্কে। আরো জানতে পারবেন এর পুষ্টিগুণ ও পুষ্টিমানসহ গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য.
পেজ সুচিপত্র
কামরাঙ্গার পরিচিতি
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা জানার আগে একটু জেনে নেওয়া দরকার কামরাঙ্গার পরিস্থিতি সম্পর্কে। কামরাঙ্গা হলো পাঁচটি শীর বিশিষ্ট হালকা সবুজ বর্ণ একটি ফল যা পেকে গেলে হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে।
এই ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও রসালো। কামরাঙ্গাকে স্টার ফ্রুটস বলা হয়। গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও এখন সারা বছরই কামরাঙ্গা পাওয়া যায়।
কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ ও পুষ্টিমান সম্পর্কে। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যার কারণে নানা রকমের উপকার করে থাকে গর্ভবতী মায়ের শরীরে। কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ ও পুষ্টিমান নিম্নরূপ -
অ্যারও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ কি না।
প্রতি ১০০ গ্রাম কামরাঙ্গাতে রয়েছে -
- এনার্জি বা শক্তি - ৫০ কিলো ক্যালরি,
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা - ৫.১০ গ্রাম,
- প্রোটিন বা আমিষ - ০.৫০ গ্রাম,
- ফ্যাট বা চর্বি - ০.১০ গ্রাম,
- ভিটামিন সি - ৬.১০ মিলিগ্রাম,
- ভিটামিন বি৯ বা ফোলেট -
- খনিজ - ০.৪০ মিলিগ্রাম,
- ক্যালসিয়াম - ১১ মিলিগ্রাম,
- আয়রণ - ১.২০ মিলিগ্রাম,
- অক্সালিক এসিড,
- সোডিয়াম,
- পটাশিয়াম,
- জলীয় অংশ। ইত্যাদি।
কামরাঙ্গা খাওয়ার নিয়ম
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার আগে জেনে নেয়া দরকার কামরাঙ্গা খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে। যেহেতু কামরাঙ্গা একটি ফল সে জন্য এটি খাওয়ার ধরাবাধা কোনো নিয়ম নেই।যেভাবে ভালো লাগে সেভাবেই খেতে পারবেন, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু নিয়ম মানা দরকার। যেমন -
অ্যারও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থার তৃতীয় তিন মাসে করণীয় বর্জনীয় ও নির্দেশিকা।
- কামরাঙ্গা সিদ্ধ করে ভর্তা করে খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গা কচি পাতা ও কচি ফল রস করে খাওয়া যায়।
- পাকা কামরাঙ্গা চিবিয়ে খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গার রান্না করে খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গা আচার করে খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গা শুকিয়ে গুড়া করে খাওয়া যায়। ইত্যাদি।
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া কি নিরাপদ
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনায় এখন আমরা মূল আলোচনা অর্থাৎ গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না সে বিষয়গুলো তুলে ধরবো। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ বলে মনে করা হয় তবে অল্পপরিমাণে কিছুটা নিয়ম-কানুন মেনে খাওয়া উচিত।
কামরাঙ্গা অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সুস্বাদু টক মিষ্টি ফল। এই ফলের পুষ্টিগুণ্যের কারণেই মূলত: গর্ভাবস্থায় খাওয়া নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খেলে যে উপকারগুলো পাওয়া যায় সেগুলো নিম্নে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো।
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা কামরাঙ্গার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিব। কামরাঙ্গা এমন একটি ফল যার রয়েছে হরেক রকমের পুষ্টিগুণ। এই পুষ্টিগুণের কারণেই কামরাঙ্গা গর্ভাবস্থায় খাওয়া ভালো।
অ্যারও পড়ুন ঃ গর্ভে বাচ্চার সুস্থতা ও ত্রুটি কিভাবে বুঝবেন?
কামরাঙ্গা ক্যালসিয়াম ও আয়রণ সমৃদ্ধ হওয়ায় গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও গর্ভস্থ শিশুর হাড়ের গঠনে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়ের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে পারতা করে থাকে। গর্ভাবস্থা ছাড়াও সকলেরই নিয়মিত পরিমাণমত কামরাঙ্গা করা ভালো।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নেব গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খেলে গর্ভবতী মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে সে সম্পর্কে।
অ্যারও পড়ুন ঃ বাচ্চার ওজন কত হলে সিজার করাতে হয় ও নরমাল ডেলিভারি গুরত্ব।
কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট, মিনারেলস, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অন্যান্য পুষ্টি উৎপাদন। যেগুলো গর্ভবতী মায়ের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও গর্ভের বাচ্চার সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে।
জ্বর-সর্দি-কাশি নিরাময় করে
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে এখন আলোচনা করব গর্ভাবস্থা কামরাঙ্গা খেলে গর্ভবতী মায়ের জ্বর সর্দির কাশি নিরাময় হয় সে সম্পর্কে।
অ্যারও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থায় পেটের বাম পাশে ব্যথা হওয়ার কারণ।
গর্ভাবস্থায় অনেক মা-বোনদেরই সর্দি-জ্বর-কাশি হয়ে থাকে। এ সময় সব ধরনের ঔষুধ খাওয়া যায় না। ভিটামিন সি ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন কামরাঙ্গা অল্প পরিমাণে খেলে গলার খুসখুসে কাশি ভালো হয়, সর্দি নিরাময় ও জ্বর উপশম হয়।
হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
গর্ভবতী অবস্থায় বেশিরভাগ মা-বোনদেরই হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য লেগেই থাকে। এই সমস্যা দূর করার জন্য প্রতিদিন পরিমাণ মতো কামরাঙ্গা অথবা কামরাঙ্গা রস করে খেলে এ সমস্যা দূর হয়। হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায়।
কামরাঙ্গা একটি আঁশ বা ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। এই ফলে বিদ্যামান ফাইবারের কারণেই এটি খাওয়ার পরে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে মলত্যাগ সহজ হয়। এজন্য পরিমাণমতো কামরাঙ্গা খেলে গর্ভবতী অবস্থায় উপকার পাওয়া যায়।
শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কি না এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জানব গর্ভবতী মা কামরাঙ্গা খেলে গর্ভে শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে সম্পর্কে।
কামরাঙ্গ হলো কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন ও ক্যালসিয়ামের একটি ভালো উৎস। যার কারণে গর্ভাবস্থায় পরিমাণ মতো কামরাঙ্গা খেলে গর্ভবতী মায়ের গর্ভের শিশুর সুস্থ বিকাশে সহায়তা করে।
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে
ব্লাড প্রেসার কম-বেশি হওয়া গর্ভবতী মা-বোনদের ক্ষেত্রে খুব সাধারণ একটি ঘটনা। কিন্তু এই ব্লাড প্রেসার উঠানামা করা ক্ষতির কারণ হতে পারে। কামরাঙ্গায় বিদ্যমান পটাশিয়াম ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের
কারনেই রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে ও ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়। এতে করে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে। এজন্য গর্ভবতী মহিলাদের কামরাঙ্গা খাওয়া ভালো।
ত্বক ভালো রাখে
ত্বক ভালো রাখতে কামরাঙ্গা যথেষ্ট কার্যকরী। গর্ভবতী মা-বোনদের গর্ভাবস্থায় মুখের ত্বকে বিভিন্ন রকমের ছোঁপ ছোঁপ দাগ দেখা যায়। কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি, এন্ট্রি অক্সিডেন্ট ও মিনারেলস।
গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ও পরিমাণমতো কামরাঙ্গা খেলে ত্বকের এই দাগগুলো দূর হয়। ত্বক মসৃণ, মলিন ও দেখতে সুন্দর লাগে। এর ফলে গর্ভাবস্থায় আপনি থাকবেন প্রফুল্ল ও উচ্ছ্বসিত।
গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়ার ঝুঁকি বা অপকারিতা
কামরাঙ্গা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ও ভালো একটি ফল এতে কোন সন্দেহ নেই। এ ফলটি বেশি পরিমাণে খেলে বা যাদের আগে থেকে কোন সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সতর্ক না হলে উপকারের পাশাপাশি কিছুটা ঝুঁকি বা অপকারিতা দেখা দিতে পারে যেমন -
- শুধু গর্ভাবস্থায় নয়, যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে তারা খেলে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। কামরাঙ্গাতে বিদ্যমান অক্সালিক এসিডের কারণেই মূলত: এটি হয়।
- গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে কামরাঙ্গা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত, এ সময় বেশি কামরাঙ্গা খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- শিশুদের কামরাঙ্গা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। তাদের কিডনি সুসংগঠিত না হওয়ার কারণে অক্সালিক এসিডের কারণে সমস্যা দেখাতে পারে।
- গর্ভাবস্থায় খালি পেটে কামরাঙ্গা খাওয়া উচিত নয় এতে করে এসিডিটির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
- কামরাঙ্গা খেয়ে গর্ভাবস্থায় এলার্জি হলে, সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক বৃন্দ, গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ কিনা এবং উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়া নিরাপদ সে সম্পর্কে। গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খেয়ে ভালো ফল পাওয়ার জন্য নিয়মিত ও পরিমাণমত খেতে হবে। ভালো ফল বলেই বেশি পরিমাণে খাওয়া যাবে না।
আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি পড়ে কামরাঙ্গা ও গর্ভবতী অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। আপনার এই জানাটা অন্যের মাঝে শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না প্লিজ। এরকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। পরিমাণমতো কামরাঙ্গা খাবেন গর্ভাবস্থায় সুস্থ থাকবেন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বি ঃ দ্র ঃ এই তথ্যগুলো সংগৃহীত। এই আর্টিকেলটি শুধু আপনাদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লেখা। গর্ভাবস্থায় কামরাঙ্গা খাওয়ার ব্যাপারে বা এই আর্টিকেলটি পড়ে যেকোন সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিন।
aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url