কামরাঙ্গার ২১ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা
কামরাঙ্গার পরিচিতি
কামরাঙ্গার ২১ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার আগে একটু জেনে নেব কামরাঙ্গার পরিচিতি সম্পর্কে। কামরাঙ্গার ইংরেজি নাম হল চাইনিজ গুসিবেরি (Chinese gooseberry) বা ক্যারামবোলা (Carambola) একে স্টার ফ্রুটস বলা হয়।
আমরা কম-বেশি সবাই কামরাঙ্গা চিনি। কামরাঙ্গা হলো তারার মত একটি ফল যা কাঁচা অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হালকা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এ ফলগুলো অনেক রসালো এবং খেতে বেশ কচকসে ও স্বাদযুক্ত।
কামরাঙ্গার পুষ্টিগুণ
আরও পড়ুন ঃ শীতে শরীর গরম ও সুস্থ রাখতে যে ২০ টি খাবার খাবেন।
- শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট - ৫.১গাম,এ
- ফাইবার বা আঁশ - ২.৮ গ্রাম,
- প্রোটিন বা আমিষ - ০.৫ গ্রাম,
- ফ্যাট বা চর্বি - ০.১ গ্রাম,
- ভিটামিন সি - ৬.১ মিলিগ্রাম,
- প্যান্টোথথনিক অ্যাসিড (বি৫) - ০.৩৯ মিলিগ্রাম ,
- ফোলেট (বি৯)-
- ক্যালসিয়াম - ১১ মিলিগ্রাম,
- খনিজ উপাদান - ০.৪ গ্রাম,
- আয়রন বা লৌহ ১.২০ মিলি গ্রাম,
- এছাড়াও কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে,
- ফসফরাস,
- এ্যালজিক এসিড,
- জিংক বা দস্তা,
- পটাশিয়াম,
- ট্যানিন,
- সোডিয়াম,
- পটাশিয়াম,
- জলীয় অংশসহ অন্যান্য উপাদান।
কামরাঙ্গা খাওয়ার নিয়ম
আরও পড়ুন ঃ মেথির ২৫ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা।
- কামরাঙ্গা কাঁচা ও পাকা অবস্থায় লবণ দিয়ে চিবিয়ে খাওয়া যায়।
- আচার তৈরি করেও খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গা সিদ্ধ করে ভর্তা বানিয়ে খাওয়া যায়।
- পাকা কামরাঙ্গা অনেক সময় রান্না করেও খাওয়া খায়।
- কামরাঙ্গা ছোট মাছ দিয়ে চচ্চড়ি রান্না করেও খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গা শুকিয়েও খাওয়া যায়।
- কামরাঙ্গা ব্লেন্ড করে শরবত তৈরি করেও খাওয়া যায়।
কামরাঙ্গার উপকারিতা
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কামরাঙ্গার ২১টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা জেনে নেব কামরাঙ্গা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে সে সম্পর্কে।
আরও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ কি না।
কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যেগুলো শরীরের রোগ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
আরও পড়ুন ঃ সোনা পাতার ১৫ টি উপকারিতা ও সতর্কতা।
কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় ও কমায়
আরও পড়ুন ঃ তিসি বীজের পুষ্টিগুণ ও ১৫ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা।
কৃমি নাশক হিসেবে কাজ করে
হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে
প্রাকৃতিক বিষনাশক
কামরাঙ্গার ২১ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জানবো কামরাঙ্গা মানব দেহের বিষক্রিয়া নষ্ট করতে সহায়তা করে, বলা যেতে পারে প্রাকৃতিক ভাবে বিষক্রিয়া নষ্ট করে।
আগেই বলেছি কামরাঙ্গার পাতা, গাছের বাকল, শিকড় ও ফল সবগুলোই মানব কল্যাণে যথেষ্ট উপকারী। এর মধ্যে মূল খেলে বিষক্রিয়া দুর হয়ে যাবে। কামরাঙ্গার মূল্যই প্রাকৃতিক বিষনাশক কাজ করে বলে জানা গেছে।
ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর করে
কামরাঙ্গার ২১টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব কামরাঙ্গা খেলে ঠান্ডা জনিত সমস্যা দূর হয় সে সম্পর্কে। কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান, যেগুলো ঠান্ডা ও ঠান্ডা জনিত ফ্লু দূর করে।
কামরাঙ্গা পুড়িয়ে ভর্তা করে খেলে ঠান্ডা জনিত এই সমস্যাগুলো থেকে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন থেকে জমে থাকা সর্দি খুব সহজেই বের হয় এবং কাশির উপশম করে। কামরাঙ্গা জ্বরের জন্য বেশ কার্যকরী। নিয়মিত পরিমাণ মতো কামরাঙ্গা সেবন করুন শরীর সুস্থ রাখুন।
পেটের ব্যথা উপশম করে
ঘাম, কফ ও বাত-ব্যথা দূর করে
ঘাম, কফ ও বাত-ব্যথা দূর করতে যথেষ্ট কার্যকারী কামরাঙ্গা। কামরাঙ্গাতে রয়েছে বিভিন্ন রকমের পুষ্টি উপাদান। যার কারণেই মূলত: শরীরের ঘান রোধ করে, কফ দূর করে বাত-ব্যথা কমায় ।
এতে রয়েছে এন্টি ইনফ্লামেটরি ইফেক্ট যার কারণে কামরাঙ্গা খেলে শরীরের বাত-ব্যথা দূর করে। কামরাঙ্গা পুড়িয়ে ভর্তা করে খেলে ঠান্ডা জনিত সমস্যায় বেশি উপকার পাওয়া যায়।
জ্বর নিরাময় করে
কামরাঙ্গার ২১ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করবো কামরাঙ্গা খেলে জ্বর কমে সে সম্পর্কে।
কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। যে উপাদানগুলো কারণে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের কারণে যে জ্বর হয় সেগুলো সেরে যায়। পাশাপাশি মুখের রুচি বাড়ায়।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে কামরাঙ্গা যথেষ্ট উপকারী। ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার হওয়ার জন্য যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য আছে তারা নিয়মিত কামরাঙ্গা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কামরাঙ্গা খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি হয় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।
মুখ ও মাড়ির রোগ দূর করে
মুখ ও মাড়ির রোগ দূর করতে কামরাঙ্গা যথেষ্ট উপকারী। কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি২, ক্যালসিয়াম, এন্ট্রি অক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান।
ভিটামিন সি মাড়ির স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে আর ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড়ের গঠন মজবুত করে। মুখের বেরি বেরি রোগ দূর করে ভিটামিন বি২।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
কামরাঙ্গার অনেকগুলো উপকারীতার মধ্যে একটি উপকারিতা হলো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কামরাঙ্গা বেশ কার্যকরী। কামরাঙ্গাতে সুগার নাই বললেই চলে। নিয়মিত পরিমাণমতো কামরাঙ্গা খেলে ডায়াবেটিসে উপকার পাওয়া যায়।
রক্ত পরিষ্কার করে
রক্ত পরিষ্কার করে বা পরিশোধন করে কামরাঙ্গা। কচি কামরাঙ্গাতে ও এর পাতায় রয়েছে ট্যানিন নামক একটি যৌগ, যেটি রক্ত পরিশোধন করে ও রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে।
অর্শ যোগে উপকারি
অর্শ রোগে যথেষ্ট উপকারিতা রয়েছে এই কামরাঙ্গার। অর্শ রোগীরা যদি প্রতিদিন নিয়মিত ও পরিমাণ মতো শুকনো কামরাঙ্গার গুড়া পানির সাথে মিশিয়ে খান তাহলে অর্শ রোগে উপকার পাবেন।
জন্ডিসের জন্য উপকারি
জন্ডিস রোগ নিরাময়ে যথেষ্ট উপকারী কামরাঙ্গা। কামরাঙ্গার রস জন্ডিস রোগ নিরাময়ের জন্য ভেষজ ঔষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সকলেরই নিয়মিত কামরাঙ্গা খাওয়া উচিত।
ত্বকের জন্য উপকারি
ত্বকের জন্য যথেষ্ট উপকারি কামরাঙ্গা। কামরাঙ্গাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি, এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ই এবং মিনারেলস যেগুলো ত্বকের জন্য যথেষ্ট কার্যকরী। নিয়মিত কামরাঙ্গা খেলে মুখের ব্রণ দূর হয়, ত্বকের বলিরেখা দূর হয় ও ত্বক সুন্দর হয়।
কামরাঙ্গার অপকারিতা
কামরাঙ্গার পুষ্টিগুন, অপকারি ও উপকারিগুণ সম্পর্কিত আলোচনার শেষ পর্যায়ে আমরা একটু দেখে নেব কামরাঙ্গা বেশি খেলে কি ধরনের ক্ষতি হয় বা অপকারগুলো কি কি? কামরাঙ্গার অপকারি দিকগুলো নিম্নরূপ -
- বেশি পরিমাণে কামরাঙ্গা খেলে, কামরাঙ্গাতে বিদ্যমান অক্সালিক এসিড কিডনিতে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
- কামরাঙ্গা রক্তের শর্করার পরিমাণ কমাতে যথেষ্ট উপকারি কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে এই শর্করার পরিমাণ অনেক কমে যেতে পারে। ফলে ক্ষতি হতে পারে।
- কামরাঙ্গাতে রয়েছে নিউরোটক্সিন নামক উপাদান, যা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।
- গর্ভবতী মহিলাদের যথেষ্ট সতর্কতার সহিত কামরাঙ্গা খাওয়া উচিত। এটি বেশি পরিমাণে খেলে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- কারো কারো ক্ষেত্রে এলার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের কামরাঙ্গা খেলে এলার্জির সমস্যা বাড়ে তাদের কামরাঙ্গা না খাওয়াই উচিত।
- শিশুদের কিডনি অপরিপক্ক থাকে। সেজন্য এদের কামরাঙ্গা খেলে ক্ষতি হতে পারে, এজন্য শিশুদের কামরাঙ্গা না খাওয়ানো ভালো।
aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url