শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম এসব নিয়ম গুলো নিয়েই আজকের আর্টিকেলটি লেখা। শীতকালে শুরু হয় শুষ্ক ও হিমেল হাওয়া। শীতের হিমেল হাওয়ায়  অ্যাডজাস্ট করে নিতে ত্বকের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে, কারো কারো আবার ত্বকে ফাটল শুরু হয়। ত্বকের জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের।
শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম
আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন শীতে ত্বক রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায় কেন? খসখসে ভাব দূর করার উপায়, ত্বকের যত্নে  কিছু ঘরোয়া নিয়ম ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে। ত্বকের যত্ন নেওয়া জন্য আর্টিকেলটি পুরোপুরি পড়ার অনুরোধ রইল। চলুন আর দেরি না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

পেজ সূচিপত্র

১.শীতে ত্বকের সমস্যা কেন হয়

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। ত্বকের যত্নে এই নিয়মগুলো মানার আগে আমাদের জানা দরকার ত্বকের সমস্যা শীতকালে কেন হয়? শীতে শুরু হয় উত্তরের হিমেল হাওয়া। এই হিমেল হাওয়ায় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কম থাকে। বাতাস হয় শুষ্ক ও অধিকতর ধুলি-বালি পূর্ণ।

ফলে আমাদের শরীর থেকে জলীয় অংশ দ্রুত বের হয়। শুধু তাই নয় শীতের কারণে ত্বকের তৈলাক্ত গ্রন্থিগুলোতে তৈলাক্ত পদার্থের উৎপাদন ব্যাহত হয়, অপরদিকে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। এই উভয় কারণেই ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে। অনেক সময় ত্বক হয় রোগাক্রান্ত। প্রয়োজন হয় ত্বকের বাড়তি যত্ন।

২.গোলাপজল ও গ্লিসারিন ব্যবহার

গোলাপজল ও গ্লিসারিন ব্যবহার শীতকালে ত্বকের যত্নে অনন্য। গ্লিসারিন ও গোলাপজল একসঙ্গে মিশিয়ে তোকে ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্ক, রুক্ষ ও খসখসে ভাব দূর করে।

আরও পড়ুন ঃ শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায়।

ত্বককে করে তুলে তৈলাক্ত ও নরম। ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা পারেন। এই মিশ্রণটির ভালো ফল পাওয়ার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করা উচিত।

৩.পর্যাপ্ত পানি পান করুন 

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়মের মধ্যে একটি নিয়ম বা উপায় হল শীতকালে পর্যাপ্ত পানি পান করা। অনেকেই শীতের ভয়ে পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। শীতকালে এমনিতেই বাতাস শুষ্ক থাকে,

আরও পড়ুন ঃ ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস।

তার উপরে পানি খাওয়া কম! এতে করে শরীর আর্দ্র থাকেনা। ফলে ত্বক খসখসে, রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের যত্নে পর্যাপ্ত পানি পান করুন ত্বক ভালো রাখুন নিজে সুস্থ থাকুন।

৪.সুতির কাপড় পরিধান করুন

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। এই নিয়মের মধ্যে একটি হলো সুতির কাপড় পরিধান করা। যাদের ত্বকে এলার্জি সমস্যা আছে তারা প্রথমে একটি সুতির কাপড় পড়ে নিন, তার উপরে শীতের মোটা কাপড় ব্যবহার করুন।
সুতির কাপড় পরিধান করুন
এতে করে ত্বকের এলার্জি ভাব চলে যাবে, চুলকানির কারণে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে, আপনার ত্বক থাকবে সুন্দর। হাত ও পায়ে সুতির মজার ব্যবহার করুন এতে করে হাত ও পায়ের ত্বক ভালো থাকবে।

৫.তেল ব্যবহার

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। এই নিয়মগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম নিয়ম হলো ত্বকে তেল ব্যবহার করা। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক খসখসে হয়ে যায়।

আরও পড়ুন ঃ শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি?

ত্বকের শুষ্কতা দূর করে তৈলাক্ত করার জন্য এতে ব্যবহার করতে পারেন প্রাকৃতিকভাবে বিশুদ্ধ বিভিন্ন তেল তেল। তেলগুলোর নাম নিম্ন উল্লেখ করা হলো - 
  • অলিভ অয়েল,
  • নারকেল তেল,
  • ভেন্নার  তেল,
  • তিসির তেল,
  • সরিষার তেল।

৬.ঠোঁটের যত্ন

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। এখন আমরা জেনে নেব ঠোঁটের যত্নের কি ধরনের নিয়ম বা উপায় মেনে চলা উচিত সে সম্পর্কে। শীতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এফেক্টে হয় ঠোঁট ও মুখমন্ডল।

আরও পড়ুন ঃ শীতে শরীর গরম ও সুস্থ রাখতে যে ২০ টি খাবার খাবেন।

তাই ঠোঁটের আদ্রতা বজায় রাখার জন্য ঠোঁটে বারে বারে লিপজেল, চিপিস্টিক ও পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারেন। কুয়াশার মধ্যে বাহিরে যাওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করুন ঠোঁট ভালো রাখুন।

৭.মধু ব্যবহার

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। এই নিয়মের মধ্যে একটি অন্যতম নিয়ম হলো মুখমন্ডলের ত্বকে মধু ও চালের গুঁড়ো ব্যবহার। মধু ও চালের গুঁড়ো একসাথে মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন স্ক্রাব। স্ক্রাব ব্যবহারে আপনার ত্বক হবে সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল।

আরও পড়ুন ঃ তেঁতুলের পুষ্টিগুণ ও ২৬ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা।

এই স্ক্রাব তৈরির জন্য এক চা চামচ মধু ও পরিমান মত চালের কুঁড়ো মিশিয়ে ভেজা ত্বকে ৪-৫ মিনিট আলতো ভাবে ঘষে, কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এরপরে নরম কাপড় দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করুন। ব্যাস হয়ে গেলো ত্বকের যত্ন।

৮.ফেস প্যাক ব্যবহার

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। এই নিয়মগুলোর মধ্যে একটি হলো ফেস প্যাক। মুখমন্ডলের ত্বকের যত্নে ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। শীতের সময় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় মুখমণ্ডল। ফেস প্যাক ব্যবহারে আপনার মুখমণ্ডলের ত্বক হবে মসৃণ, উজ্জ্বল, সুন্দর ও লাবণ্যময়ী।
ফেস প্যাক ব্যবহার
মুখমণ্ডল ভালো রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারেন নিজের হাতে তৈরি করা ফেস প্যাক। এই ফেস প্যাকে নিতে পারেন দুধের সর, কাঁচা হলুদ, টক দই বা বেশন। এগুলো আপনার ত্বকের অবস্থা বুঝে প্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।

৯.ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন

শীতে ঠোঁটের ত্বক ভালো রাখতে ঠোঁট চাটা বন্ধ করুন। অনেকেরই বদভ্যাস আছে শীতকালে ঠোঁট ফাটা শুরু হলে অনবরত জিভের মাধ্যমে থুতু বা লালা দিয়ে ঠোট ভিজিয়ে রাখেন।

থুতু বা লালায় থাকে এনজাইম, যেগুলো খুব দ্রুত ঠোঁটকে করে তোলে শুষ্ক ও চটচটে। এই অবস্থায় বাতাসের সংস্পর্শে আসলেই ঠোঁট ফেটে যায়। ঠোঁট চাটা ছেড়ে দিন ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।

১০.পাকা কলা ব্যবহার

পাকা কলা ব্যবহার ত্বকের যত্নে শুনতেই অবাক! আসলে অবাক হওয়ারই কথা! একটু পরিশ্রম করে তৈরি করে নিন পেস্ট। কলার সাথে মিশান বেসন, দুধ,  প্রয়োজনে কাঁচা হলুদ। এগুলো পরিমাণ মতো মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন।

এই পেস্ট মুখে, গলায়, হাতে ও পায়ে ব্যবহার করে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এবার পরিষ্কার, শুকনো ও নরম কাপড় দিয়ে মুছে ময়েশ্চারাইজার ক্রিম ব্যবহার করুন। এই পাকা কলা ব্যবহারে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে সুন্দর, মসৃণ, কোমল ও উজ্জ্বল।

১১.উষ্ণ গরম পানিতে গোসল

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪টি ঘরোয়া নিয়ম। এই নিয়ম গুলোর মধ্যে একটি হল নিয়মিত উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করা। অনেকেই শীতের ভয়ে গোসল করতে চান না।

ফলে ত্বকে ময়লা-মাটি জমে ত্বক আরো বেশি রুক্ষ, শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়। নিয়মিত গোসল না করার কারণে ত্বকে হতে পারে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ। ত্বকের যত্নে নিয়মিত গোসল জরুরী।

১২.গায়ে রোদ লাগান

শীতে ত্বকের যত্নে মেনে চলুন ১৪ টি ঘরোয়া নিয়ম। এ নিয়মের মধ্যে একটি অন্যতম হলো গায়ে রোদ লাগানো। আবহাওয়ার কারণে শীতের দিনের রোধ কম থাকে। তার উপরে শীতের ভয়ে বাইরে বের হয না অনেকেই।

বিশেষ করে মহিলারা, তবে যখনই সুযোগ পাবেন একটু বাড়ির ছাদে বা বেলকোনীতে বসে গায়ে রোদ লাগাবেন। এতে করে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি পাবেন। ত্বক সতেজ, সুন্দর ও মসৃণ থাকবে। প্রচন্ড শীতের মধ্যেও আপনি থাকবেন প্রাণবন্ত।

১৩.সাবান-শ্যাম্পু ব্যবহার 

সাবান-শ্যাম্পু ব্যবহার করে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে সাবানগুলো যেন বেশি ক্ষারযুক্ত না হয়। অর্থাৎ যে সমস্ত সাবান-শ্যাম্পুতে ক্ষারের পরিমাণ কম এই ধরনের সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।

সবচেয়ে ভালো হয় গ্লিসারিন যুক্ত অ্যালোভেরা ও নিমের সাবান। এই সাবানগুলো ত্বক তৈলাক্ত রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ দূর করে ও ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকে।

১৪.কমলা লেবুর ব্যবহার

ত্বকের যত্নে কমলা লেবু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কমলালেবুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সিডেন্ট যেগুলো ত্বকের বলিরেখা দূর করে। ত্বক হয়ে উঠে সুন্দর লাবণ্য ময়ী।

অপরদিকে কমলা লেবুর খোসা, দুধের সর, কাঁচা হলুদ ও বেশন একসাথে ব্লেন্ড করে মুখমণ্ডল ও গলায় ব্যবহার করে ২০-২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। রূপচর্চায় কমলালেবুর খোসার ব্যবহার অনেক আগে থেকেই প্রচলিত।

উপসংহার 

প্রিয় পাঠক বৃন্দ ত্বকের যত্ন সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা ত্বকের যত্নে করনীয় উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন বলে আমার বিশ্বাস। ত্বকের যত্ন সম্পর্কিত এ তথ্যগুলো আপনাদের বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করে দিবেন যেন তারাও ত্বকের যত্ন সম্পর্কে করণীয় উপায়গুলো জানতে পারে।

ত্বকের যত্ন সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেল সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে কমেন্টস বক্সে জানানোর অনুরোধ রইলো। এরকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। এই শীতে শুধু ত্বকেরই নয় নিজের স্বাস্থ্যেরও যত্ন নিন, সুস্থ থাকুন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url