শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি সে সব বিষয়গুলো নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। শীতকাল মানেই কিছু বাড়তি উৎসব, কিছু বাড়তি খাওয়া-দাওয়া। এই ধরুন পিঠা উৎসব, পিকনিক, পার্টি, বিয়ে বাড়ি এরকম বিভিন্ন উৎসবে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া হয়ে যায়। তারপরেও যেন ক্ষুধা লেগেই থাকে! খেয়েও যেন তৃপ্তি হয় না! ভারী খাবারের পাশাপাশি টুকটাক খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি

মনটা যেন সব সময় খাওয়ার জন্য আনচান করে। মনটা শুধু খাই খাই করে। আর এ কারণে শরীরে বিভিন্ন রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে, হতে পারে পেটের পীঠা। কিন্তু কেন? মন সব সময় খাই খাই করে? শীতকালে একটু বেশি বেশি ক্ষুধা লাগে, এটা কি জানেন? একটু ধৈর্য সহকারে ওআর্টিকেলটি পড়ুন, জেনে নিন শীতকালে যে কারণে বেশি বেশি ক্ষুধা লাগে?

পেজ সূচীপত্র

১.তাপমাত্রা বা উষ্ণতা 

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি তার মধ্যে প্রধান কারণ হলো তাপমাত্রা বা উষ্ণতা। শীতকালে অনেক সময় পরিবেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে নেমে যায়। কিন্তু শরীরকে অটো মেকানিজম করে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হয়।

আরও পড়ুন ঃ পানি কম খেলে শরীরের যে ১২টি ক্ষতি হয়।

শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি বা এলার্জির প্রয়োজন হয়। এনার্জি ঘাটতি পূরণ করার জন্য শরীরে খাদ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। এনার্জি তথা খাদ্যের চাহিদা পূরণ করার জন্য ঘন ঘন ক্ষুদা লাগে ও খেতে ইচ্ছে করে। শরীরের উষ্ণতা ঠিক রাখার জন্য বারবার পরিমান মত খাওয়া উচিত।

২.খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি সে সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব খাবারে প্রোটিনের ঘাটতি হলে কেন বেশি বেশি ক্ষুধা লাগে সে সম্পর্কে। শীতকালে দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে বেশি বেশি প্রোটিনের প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন ঃ শীতে শরীর গরম ও সুস্থ রাখতে যে ২০ টি খাবার খাবেন।

যদি কোন কারনে প্রোটিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ কম হয়, তাহলে দেহের তাপমাত্রা উৎপাদন ব্যাহত হয় ফলে শরীর বেশি বেশি ক্ষুধা লাগে এই মর্মে সিগন্যাল দেয়। দেহে প্রোটিনের অভাব পূরণে ডিম, ছোলা, বাটার, টুনা মাছ, ডাল, টক দই, কুমড়ার বীজ ও বাদাম এগুলো খাওয়া জরুরী।

৩.ডিহাইড্রেশন বা পানি স্বল্পতা 

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি তার একটি অন্যতম কারণ হলো ডিহাইড্রেশন বা পানি স্বল্পতা। শীতকাল মানেই পানি খাওয়া কম! ব্যাপারটা এমনই হয়েছে। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা পানি ছাড়া আমাদের দেহের সকল কার্যক্রম প্রায় অচল।

ডিহাইড্রেশন বা পানি স্বল্পতা

শারীরিক গঠনে শরীরে যত তরল পদার্থ আছে তার ৭৫ ভাগই পানি। বুঝতেই পারছেন এই পানি ছাড়া আমাদের দেহের মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত কোন কার্যক্রমই ঠিকমতো চলে না। শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগে ফলে পানি কম খাওয়া হয়।

পানি খাওয়া কম হলে দেহের অভ্যন্তরীণ মেটাবলিজম বা ক্রিয়াকলাপ প্রায় অচল হয়ে যায়। আর এই পানি স্বল্পতা পূরণ করার জন্যই ঘন ঘন ক্ষুদা লাগে। সেজন্য বছরের সব সময় পানি ঘাটতি পূরণে বেশি পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। 

৪.ঘুম ভালো না হওয়া

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি তার মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হলো ঘুম ভালো না হওয়া। ভালো ঘুম না হলে শরীরে সঠিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাহত হয়। হরমনের ব্যালেন্স ঠিক থাকে না। সে জন্য শরীরকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আরও পড়ুন ঃ অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার ১৬ টি ক্ষতিকর দিক।

ভালো ঘুম বা পূর্ণাঙ্গ বিশ্রাম না হলে শরীরে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। যে হরমোন গুলো ক্ষুদা বাড়ায়। এই হরমোনের এম ব্যালেন্সের কারনে ক্যালরিযুক্ত খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এজন্য ঘুম ভালো না হলে বারবার ক্ষুদা লাগে ও খেতে ইচ্ছা করে।

৫.খাবারে ফ্যাট ও ফাইবারের অভাব

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো খাবারের ফ্যাট ও ফাইবারের অভাব। ফ্যাট দেহের অতিরিক্ত তাপমাত্রা উৎপাদনে সহায়তা করে ও দেহকে উষ্ণ রাখে। শীতকালে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে  উদ্ভিজ্জ ফ্যাট জাতীয় খাবার (বাদাম, ড্রাই ফ্রুটস, শিমের বীজ ইত্যাদি) খেতে হবে।

আরও পড়ুন ঃ মাটির পাত্রে পানি রেখে পান করলে মিলবে ১৫ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা।

খাবারে যদি আঁশ বা ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি পেট খালি হয়ে যায় এবং ক্ষুধা লেগেছে মনে হয়। এজন্য ফাইবার কম খেলে বেশি বেশি ক্ষুধা লাগে। শরীর সুস্থ রাখার জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার (ব্রকলি, ফুলকপি, গাজর, টাটকা শাকসবজি  ইত্যাদি) বেশি বেশি খেতে হবে।

৬.মানসিক চাপ

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো মানসিক চাপ। মানসিক চাপ বেড়ে গেলে

আরও পড়ুন ঃ দ্রুত ওজন কমানোর ১০ টি সহজ উপায়।

আমাদের শরীরে এক ধরনের হরমোন নিঃসরণ হয়। যে হরমোন গুলো নিজেকে ক্ষুধার্ত করে তোলে। এই ক্ষুধা নিবারণের জন্যই বারবার ক্ষুধা লাগে ও খেতে ইচ্ছে করে।

৭.উইন্টার ব্লজ বা অবসাদ 

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি তার মধ্যে একটি অন্যতম কারণ হলো উইন্টার ব্লুজ। শীতকালে কম-বশি সকলেরই কাজে মন না বসা, অবসাদ লাগা বা ভালো লাগেনা এই সমস্যাগুলো খুবই কমন। কিন্তু কেন এমন হয়? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষা শীতকালের এই সমস্যাগুলোকে একত্রে বলা হয় সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (SAD).

উইন্টার ব্লজ বা অবসাদ

মূলত:শীতকালের ঠান্ডা আবহাওয়া ও কম সূর্যালোকের কারণেই উইন্টার ব্লজ বা অবসাদ হয় বলে তাঁরা জানিয়েছেন। এই ঠান্ডা আবহাওয়া বা সূর্যালোকের অভাবে যেন দেহের তাপমাত্রা কমে না যায় সেজন্য দেহে তাপমাত্রা তৈরি জন্য প্রয়োজন হয় অতিরিক্ত এলার্জির ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে।

৮.করনীয় কি

শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি এ সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব ঘন ঘন ক্ষুদা লাগার কারণে বেশি বেশি খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি, পেটের পীড়া ও  অন্যান্য যে সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে সে সম্পর্কে করনীয় কি?

নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে শরীরের তাপমাত্রা বজায় থাকে, ক্ষুধা নিবারণ হয়, ওজন ঠিক থাকে ও শরীর রোগমুক্ত থাকে।

  • যে খাবারগুলোতে চর্বি কম ক্যালরি বেশি এ সমস্ত খাবার খাদ্য তালিকা যোগ করতে হবে।
  • শুকনা ফ্রুটস খাদ্য তালিকা রাখতে হবে।আঁশ বা ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে।
  • খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে কম কম করে বেশি বারে খেতে হবে।
  • খাদ্য তালিকায় দেশীয় ফল রাখতে করতে হবে।
  • প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় টাটকা শাক-সবজি রাখতে হবে।
  • প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কাইক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে আধা ঘন্টা হাঁটাহাঁটি করতে হবে।

উপসংহার

আশা করি, শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে কারণে ও করণীয় কি এ সকল বিষয়গুলো সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। শীতকালে বেশি বেশি ক্ষুধা লাগে শরীরে উষ্ণতা বজায় রাখতে শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা উৎপাদনের কারণে।

এ ধরনের আরও আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। অন্যদেরকে জানার জন্য আজকের এই লেখাগুলো অনুগ্রহ করে শেয়ার করে দিন। নিয়মিত ক্যালরিযুক্ত খাবার খান শীতে শরীরের তাপমাত্রা বজায় রেখে শরীর সুস্থ রাখুন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url