শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায়

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। শীত আসলেই পা ফেটে চৌচির। কারো কারো সারা বছরই পা ফাটে আবার অনেকেরই পায়ের গোড়ালি ফেটে রক্ত ঝরে। কি নিদারুণ কষ্ট! শুধু কষ্টই নয় দেখতেও বিশ্রী লাগে অথচ একটু সতর্ক হলেই পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধ করা যায়।

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায়

আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটে কেন বা পা ফাটার কারণ কি? পায়ের গোড়ালি ফাটা প্রতিকারের উপায় কি? পা ফাটা প্রতিকারের জন্য কোন ঔষধ বা ক্রিম আছে কি না, ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে। একটু ধৈর্য সহকারে পড়ুন। চলুন আর দেরি না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

যে অংশ পড়তে চান

১.পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটা কাকে বলে

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে জানার আগে আমাদের জেনে নেওয়া দরকার পা ফাটা বলতে আমরা কি বুঝি? শীতকালে বা কারো কারো সারা বছরই বিভিন্ন কারণে পা, পায়ের গোড়ালি, হাতের তালু অথবা শরীরের অন্যান্য অংশগুলো ফেটে যায়।

তবে সচরাচর পায়ের গোড়ালির অংশটাই চোখে পড়ে। শীতে পা ফাটার প্রবণতা বেশি। কারো কারো ক্ষেত্রে প্রচন্ড ব্যথা হয়। এই ফাটা অংশ দিয়ে জীবাণু প্রবেশ করে, অনেক সময় ইনফেকশন হয়ে স্যালুলাইটিস ও অন্যান্য রোগ সৃষ্টি করে। ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটা বেশি।

২.পা ও পায়ের গোড়ালি কাটার কারণ

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করবো পা ফাটার কারণ সম্পর্কে। শীত মৌসুমে বাতাসের আদ্রতা কমে যায় ফলে বাতাসে ধূলি-কণার পরিমাণ বেশি থাকে। এর প্রভাব পড়ে ত্বকে।

আরও পড়ুন ঃ ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস।

ত্বক হয়ে উঠে রুক্ষ ও শুষ্ক। এসময় স্ক্রিনের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, এমন কি ফেটে যায়। যার প্রভাব পড়ে হাতে ও পায়ে। অনেকেরই আবার ঠোঁট ও চল ফাটে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও চিকিৎসকদের মতে শীতে পা ফাটার কারণ সমুহ নিম্নরূপ - 

  • শীতকালের শুষ্ক আবহাওয়া।
  • বাতাসের আদ্রতা কমে যাওয়া।
  • ত্বকের তৈলাক্ততা কমে যাওয়া ।
  • স্কিনের অটোমেকানিজম এর কারণে ত্বকের গ্রন্থি থেকে তৈলাক্ত পদার্থ নিঃসরণ হয় কিন্তু শীতের শুষ্কতার কারণে এই তৈলাক্ত পদার্থের উৎপাদন ব্যাহত হয় ফলে ত্বক কেটে যায়।
  • মানব দেহে পানি শুন্যতার কারনেও পা ফাটে।
  • বেশিরভাগ সময় পা বের হয়ে থাকে, কাপড়ে আবৃত থাকে না, সেজন্য শুষ্কতার প্রভাবটা পায়েই বেশি পড়ে ও পা ফাটে।
  • শরীরে পানির অভাব ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে পা ফাটে।
  • বায়ু দূষণের প্রভাবেও অনেকের পা ফাটে।
  • ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে গেলেও ত্বক ফেটে যায়।
  • ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের অভাব।
  • ভিটামিনের অভাব হলে পা ফাটে।
  • এছাড়াও বিভিন্ন রোগ বিশেষ করে সোরিয়াসিস, একজিমা, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড এর কারণেও পা ফেটে যেতে পারে।

বিভিন্ন গবেষক, চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা বলেছেন, যে কারণেই পা বা পায়ের গোড়ালি ফাটুক না কেন এর প্রতিকার ঘরোয়া উপায়েই করা যায়। চলুন একে একে জেনে নিই সেই উপায়গুলো -

৩.পায়ের গোড়ালি ফাটা প্রতিকারের উপায়

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব পায়ের গোড়ালি ফাটা প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে। পা ফাটা রোধের জন্য আমাদের কিছু অভ্যাসগত পরিবর্তন জরুরী।

আরও পড়ুন ঃ শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে যে ৮ কারণে ও করণীয় কি?

পা ফাটা রোধ করার জন্য সব সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে -

  • পা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে,
  • ত্বক আর্দ্র ও নরম রাখতে হবে,
  • আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করতে হবে,
  • পায়ে মোজা ব্যবহার করতে হবে,
  • বাসা বাড়ির ভেতরে খালি পায়ে না থাকা,
  • আরামদায়ক ও নরম স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে।

৪.পা ফাটা প্রতিকারে কুসুম গরম পানি ব্যবহার 

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব পা ফাটা প্রতিকারে গরম পানির ব্যবহার সম্পর্কে। কুসুম গরম পানিতে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পা ভিজিয়ে রাখুন।

পা ফাটা প্রতিকারে কুসুম গরম পানি ব্যবহার

ফাটা অংশ নরম হয়ে গেলে সেখানে কাপড় বা ধুন্দুলের খোষা বা ঝামা দিয়ে ঘষে ভালোমতো পরিষ্কার করুন। এতে করে ফাটা অংশের মরা চামড়া উঠে যাবে ও ত্বক সুন্দর, মসৃণ উজ্জ্বল হয়ে। পরিষ্কার পায়ে মধু ও অ্যালোভেরার জেল লাগাতে পারেন।

৫.লবণ পানি ব্যবহার 

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব লবণ পানির ব্যবহার সম্পর্কে। কুসুম গরম পানিতে এক চামচ লবণ দিয়ে সেই পানিতে

আরও পড়ুন ঃ শীতে শরীর গরম ও সুস্থ রাখতে যে ২০ টি খাবার খাবেন।

কিছু সময় ধরে পা ডুবিয়ে রাখলে পায়ের ত্বকগুলো নরম, মসৃণ ও সুন্দর হয়। এভাবে কয়েকদিন করলে পায়ের ফাটা রোধ হয়। চামড়ার মরা অংশ উঠে গিয়া নতুন কোষ গজাতে সহায়তা করে।

৬.গ্লিসারিন ও গোলাপজল ব্যবহার 

গ্লিসারিন ও গোলাপজল ব্যবহার করলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। লবণ পানি ব্যবহার করা হয়ে গেলে পা পরিষ্কার হলে শুকনো কাপড় দিয়ে পা মুছে সেখানে গ্লিসারিন ও গোলাপজল লাগাতে পারেন।

আরও পড়ুন ঃ মেথির ২৫ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা।

এতে করে ত্বক নরম হয়, ত্বকের ফাটা রোধ করে এবং ব্যথা কমে যায়। গোলাপজলের এন্ট্রি ইনফ্লামেটরি ইফেক্টের কারণেই ব্যথা কমে।

৭.ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা আলোচনা করব পা ফাটা প্রতিরোধে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার সম্পর্কে। গরম পানি দিয়ে পা পরিষ্কার করা হয়ে গেলে এইবার ফাটা অংশগুলোতে বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।

আরও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ কি না।

পায়ে এই ময়েশ্চারাইজার গুলো বেশি সময় থাকে না, তাই হাঁটাচলা করতে হলে অবশ্যই মোজা ব্যবহার হবে। এই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় পায়ে থাকলে ভালো হয়। সেজন্য ময়েশ্চারাইজারগুলো রাতে ব্যবহার করা ভালো। ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন - 

৮.নারকেল তেল ব্যবহার

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নেব নারকেল তেল ব্যবহার সম্পর্কে। প্রতিদিন কমপক্ষে দু'বার নারকেল তেল পা ও পায়ের ফাটা অংশের ব্যবহার করলে - 

নারকেল তেল ব্যবহার

  • ত্বকের শুষ্কতা কমে যায়,
  • আদ্রতা ধরে রাখে,
  • ত্বক তৈলাক্ত হয়,
  • ফাটা ভাব দূর হয়,
  • মৃত কোষগুলো দূর করে,
  • নতুন কোষ গজাতে সহায়তা করে।

ভালো ফল পাওয়ার জন্য তেল উষ্ণ গরম করে রাত্রে ব্যবহার করা উচিত।

৯.পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার 

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কে আলোচনায় এখন আমরা জানবো পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার সম্পর্কে। ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বক ফাটা রোধে পেট্রোলিয়াম জেলি বেশ কার্যকরী।

দিনে দু-তিনবার ত্বক ভালো মতো পরিষ্কার করে পেট্রোলিয়াম জেলি ও লেবুর রস ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা দূর করে আদ্রতা ধরে রাখে। পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধে ভালো ফল পাওয়ার জন্য নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে রাত্রে ব্যবহার করতে পারেন।

১০.বডি লোশন ব্যবহার 

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপায় সম্পর্কে আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব বিভিন্ন বডি লোশনের ব্যবহার সম্পর্কে। অনেকেরই পা ফাটার সাথে সাথে শরীরে ত্বক ও মুখমণ্ডল ফেটে যায়। মুখমন্ডল ও বডিতে এই লোশন নিয়মিত ব্যবহার করলে ফাটা রোধ হয়।

১১.ভেষজ ব্যবহার

পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধ করার জন্য ভেষজ উপাদান দিয়ে পেস্ট তৈরি করে ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দুধের স্বর, মধু, কাঁচা হলুদ বাটা, গ্লিসারিন, অ্যালোভেরার জেল সবগুলো 

একসাথে পেস্ট করে পায়ের ফাটা অংশে লাগিয় ১০-১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কয়েকদিন ব্যবহার করলে পায়ের গোড়ালি লি ফাটা রোধে ভালো উপকার পাওয়া যায়।

১২.টাটকা ফলমূল ও শাক সবজি

টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। অনেক সময় কিছু কিছু ভিটামিনের অভাবেও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় ও ফেটে যেতে পারে।

সেজন্য প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে ফলমূল ও শাকসবজি খেলে এই ভিটামিনের অভাব পূরণ হয় ও ত্বকের শুষ্কতা কমে গিয়ে ফাটা ভাব দূর করে।

১৩.অন্যান্য তেল ব্যবহার 

তেল ব্যবহারে ত্বক ভালো থাকে, ত্বক হয় মসৃণ ও নরম। শুধু শীতকালেই নয় বরং সারা বছরই যাদের পা বা ত্বক ফাটে তারা যদি নিয়মিত ভাবে ব্যবহার করতে পারেন নিম্নের তেল গুলো - 

  • অলিভ অয়েল,
  • সরিষার তেল,
  • বাদামের তেল,
  • সরিষার তেল,
  • তিলের তেল,
  • ভেন্নার  তেল।

এই তেল গুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে পা সহ ত্বকের অন্য অংশের ফাটাও রোধ হতে পারে।

১৪.পর্যাপ্ত পানি পান 

শীতে পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ এবং প্রতিকারের ১৪ টি উপারের মধ্যে অন্যতম একটি উপায় হল পর্যাপ্ত পানি পান করা। পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রতিদিন পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে ত্বকের শুষ্কতা কমে যায়, ফলে ত্বক আদ্র থাকে, নরম ও মসৃণ হয় এবং ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করে।

উপসংহার

আশা করি আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা পা ও পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ ও প্রতিকারের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন এবং উপকৃত হয়েছেন। পা ফাটা রোধের উপায়গুলো ভালোভাবে মেনে চললে উপকার পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। এই শীতে আপনার পায়ের গোড়ালি মসৃণ, মলিন ও সুন্দর হোক এটাই কাম্য।

এ রকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে কমেন্টস বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল। আর হ্যাঁ প্রিয়জনদের সাথে আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না প্লিজ। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।



বি ঃদ্র ঃএই আর্টিকেলটি আপনাদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে লেখা। যেকোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার স্ক্রিন স্পেশালিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করুন।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url