ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এ সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। শীত মৌসুমে বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে আমরা মেতে উঠি ও অসতর্ক থাকি। এই সময় আনন্দের পাশাপাশি অনেকেরই ঠান্ডা লেগে যায়, সর্দি-কাশি ও জ্বর হয়। এগুলোর সাথে যোগ হয় তীব্র মাথাব্যথা। অকারনেই হুট করে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং অস্থির লাগে।
আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন ঠান্ডার সময় কেন তীব্র মাথাব্যথা হয়? মাথা ব্যথার কারণ, ঠান্ডা লাগার লক্ষণ, মাথা ব্যথা হলে করণীয় কি? ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে। চলুন আর দেরি না করে মূল আলোচনা যাওয়া যাক। ধৈর্য সহকারে নিচের দিকে পড়তে থাকুন, আর জেনে নিন ঠান্ডায় মাথা ব্যথা সম্পর্কে।
পেজ সুচিপত্র
১.ঠান্ডায় মাথা ব্যাথার কারণ
শীতে মাথা ব্যথার কারণ পর্যালোচনায় বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মতামতের ভিত্তিতে বলা যায় শীতকালে ঠান্ডায় কিছু কিছু ভাইরাস বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা বেশি সক্রিয় থাকে। এ সময় নিজেরা সজাগ না থাকলে কমন কোল্ড বা ঠান্ডা জনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে পাশাপাশি বেড়ে যাবে মাথাব্যথা।
এই ভাইরাসগুলো নিঃশ্বাসে, চোখ দিয়ে অথবা মুখ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে সবারই। কিন্তু যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম কেবল তারাই আক্রান্ত হন। শুরু হয় সর্দি, হাঁচি, মাথাব্যথা, কাশি সহ নানান সমস্যা।
আরও পড়ুন ঃ শীতকালে ঘন ঘন ক্ষুদা লাগে যে ৮ কারণে ও করনীয় কি?
শীতের সময় শরীর অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, খাদ্যাভ্যাস ও চলাফেরায় নানা পরিবর্তন আসে। যার কারনে মাথাব্যথা সহ অন্যান্য সমস্যাও বেড়ে যায়।
অনেকেই শীতকালে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখেন। রুম হিটার চালান, যার কারণে ঘরে মুক্ত বাতাস চলাচল ব্যাহত হয়। একই বাতাস বারবার গ্রহণের কারণে অনেকের মাথাব্যথা করে।
২.ঠান্ডা লাগার লক্ষণ
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব ঠান্ডা লাগার লক্ষণ গুলো সম্পর্কে। শীতকালে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। ঠান্ডায় ভাইরাসে আক্লান্ত হলে মাথাব্যাথার পাশাপাশি নিম্নোক্ত লক্ষণ গুলো প্রকাশ পায়।
আরও পড়ুন ঃ শীতে শরীর গরম ও সুস্থ রাখতে যে ২০ টি খাবার খাবেন।
- সর্দি,
- কাশি,
- চোখ লাল হওয়া,
- চোখ দিয়ে পানি ঝরা,
- জ্বর,
- গলা ব্যথা,
- নাক চেপে আসা,
- দিয়ে পানি পড়া,
- হাঁচি,
- ক্লান্তিবোধ,
- মাথাবথা,
- শরীরে ব্যথা,
৩.ঠান্ডা জনিত মাথা ব্যথায় করণীয়
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এই শিরোনামটি আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব শীতকালে ঠান্ডা লেগে মাথা ব্যাথা হলে কি করতে হবে বা করণীয় কি? আমরা উপরের আলোচনায় জেনেছি মাথা ব্যথা হওয়ার কারণ ও মাথা ব্যাথা হলে কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায়।
মাথাব্যথা রোধে নিজেকে সতর্ক অবস্থায় চলাচল করতে হবে। যেমন মুখ ঢেকে চলাচল করলে ভাল হয়, নাকে কুয়াশা কিম্বা ধূলাবালি প্রবেশ করতে না পারে। এগুলোর কারণে অ্যালার্জি, সর্দি, হাঁচি বেড়ে যায় এবং মাথাব্যথা শুরু হয়। মাথা ব্যাথা রোধে সতর্কতার পাশাপাশি নিম্নোক্ত টিপসগুলো মেনে চলতে হবে।
৪.ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব ঠান্ডা জনিত মাথা ব্যথা হলে ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য গ্রহন করা সম্পর্কে। শীতের কারণে মাথাব্যথার সাথে তাপমাত্রা একটা সম্পর্ক রয়েছে।
আরও পড়ুন ঃ মেথির ২৫ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা।
ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য (চা, কফি ইত্যাদি) গ্রহণ করলে মেন্টাল স্ট্রেস কমে, রক্তনালী শিথিল হওয়ার ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মাথাব্যথা কমে।
৫.গরম চা খান
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এর মধ্যে একটি অন্যতম টিপস্ হলো গরম চা খাওয়া। শীত লাগলে গরম খাবার সবারই পছন্দ, তারপরে চা হলে তো কথাই নেই! চা হলো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ গরম পানীয়। এই পানিও সাইনাস কমাতে সহায়তা করে যা মাথা ব্যাথার একটি কারণ
আরও পড়ুন ঃ গর্ভাবস্থায় তেঁতুল খাওয়া নিরাপদ কি না।
মাথা ব্যাথা হলে এই চা বিভিন্ন ভাবে খেতে পারেন। যেমন - চায়ের সাথে মেশাতে পারেন আদা, পুদিনা পাতা, তুলসী পাতা, লেবুর রস, সর্বোপরি চিনি ছাড়া লাল চা। এগুলো আপনার আপনার সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথা সহ মেন্টাল স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি মাথাব্যথা কমায়।
৬.গরম পানি পান করুন
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এর মধ্যে একটি টিপস হলো গরম পানি পান করা। গরম পানি পান করলে মিউকাস বের হতে সহায়তা করে। গরম পানিতে লেবুর রসসহ পান করলে
আরও পড়ুন ঃ সোনা পাতার ১৫ টি উপকারিতা ও সর্তকতা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে ও উপকার বেশি পাওয়া যায়। গরম পানিতে লবন দিয়ে গারগিল করলেও গলা পরিষ্কার হয়, নাক চেপে যাওয়া কমে যায়। সর্দির উপশম হয় ফলে মাথা ব্যথা কমে।
৭.কুসুম গরম তেল মেসেজ
হালকা গরম তেল মেসেজ করলে মাথা ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। এক্ষেত্রে খাঁটি সরিষার তেলের সাথে দু-তিন কোয়া রসুন যোগ করে গরম করুন। গরম করা হয়ে গেলে সেই তেল কুসুম কুসুম গরম
অবস্থায় কপালে, চিপের নিচে ও নাকে মেসেজ করলে পেশি ও নার্ভ শিথিল করার পাশাপাশি দ্রুততার সাথে ঠান্ডা জনিত মাথা ব্যথা কমতে সহায়তা করে। এমনকি মাইগ্রেন জনিতে ব্যথা হলেও কমে যায়।
৮.লেবু খান
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এর অন্যতম একটি টিপস্ হলো লেবু খাওয়া। লেবুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। লেবু খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। সর্দি হাসি কাশির মতো সমস্যাগুলো দূর হয় এবং মাথাব্যথা কমে।
কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস খেলে অথবা ভাতের সাথে লেবু খেলে ফ্লু জাতীয় বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়, বিশেষ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রমণ কমে যায়। এই ভাইরাসের করনেই মাথাব্যথা বাড়ে, লেবু খেলে এই ভাইরাস গুলো পরাজিত হয় ফলে মাথাব্যথা কমে।
৯.গরম সেঁক দিতে পারেন
গরম সেঁক দিলে মাথাব্যথা তৎখনাত উপশম হয়। গরম সেঁক দেওয়ার জন্য নরম কাপড় গরম পানিতে ভিজিয়ে চিপে নিয়ে সেই গরম কাপড় কপালে, নাকের দুপাশে, চোখের উপরে সেঁক দিলে ঠান্ডা জনিত ও সাইনাস জনিত মাথা ব্যথা কমে যায়।
১০.পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এর মধ্যে অন্যতম একটি টিপস্ হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিলে মাথাব্যথা কমে এর কারণ হলো বিশ্রাম নিলে হেড-নেকের ব্লাড ভেসেল শিথিল হয়।
ব্লাড সার্কুলেশন বেড়ে যায়। মাথা ব্যথা কমে যায়। গবেষণায় প্রমাণিত একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দৈনিক সাত থেকে নয় ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন ঠান্ডায় মাথাব্যথা মুক্ত থাকুন।
১১.শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখুন
শরীরের আর্দ্রতা বজায় থাকলে শীতকালে ঠান্ডা জনিত মাথাব্যথা কম হয়। শীতকালে শরীরের আদ্রতা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, নিয়মিত গোসল করুন, নিয়মিত মাথা ও মাথাও চুল পরিষ্কার রাখুন।
বেশি পরিমাণে চা-কফি খেলে শরীরের আর্দ্রতা কমে যায়, শরীর রুক্ষ হয়। এতে করে মাথা ব্যাথা বেড়ে যেতে পারে। শরীরের আদ্রতা বজায় রাখুন মাথাব্যথাকে না করুন।
১২.যোগব্যায়াম করতে পারেন
যোগব্যায়াম ঠিক মতো করতে পারলে মাথা ব্যথা উপশম হয় সঠিক যোগব্যায়াম করার সময় ঘাড় ও কাঁধের ব্যায়াম হয় ফলে পেশি ও ব্লাড ভেসেল প্রোসারিত হতে সহায়তা করে।
গবেষণায় প্রমাণিত যোগব্যায়াম মাথা ব্যথা ও স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে। ঠান্ডায় মাথা ব্যথা বেড়ে গেলে যোগব্যায়াম করলে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন।
১৩.টাটকা শাক-সবজি খান
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এর মধ্যে আরেকটি টিপস হলো টাটকা শাক-সবজি খাওয়া। টাটকা শাক-সবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে মিনারেলস, এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। যেগুলো শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
এই বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের কারণে শরীরে ভাইরাল ইনফেকশন গুলো হতে পারে না। গরম গরম সবজি স্যুপ খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। যার কারণে মাথাব্যথা হয় না বললেই চলে। এজন্য শীতে টাটকা শাক-সবজি খান মাথাব্যথা মুক্ত থাকুন।
১৪.আদার রস খান
আদার রস দ্রুত মাথা ব্যথ কমানোর জন্য বেশ কার্যকরী। এটিতে রয়েছে এন্ট্রি ব্যাকটেরিয়াল ইফেক্ট যা প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে পাশাপাশি ইমিউন সিস্টেম ডেভেলপ করে।
লাল চায়ের সাথে আদা মিশিয়ে খেলে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও মাথা ব্যথা অনেকটাই কমে যায়। আদা সিদ্ধ করে কুসুম কুসুম গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে খেলে তৎক্ষণাৎ মাথা ব্যথা কমে যায়।
১৫.প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
ঠান্ডায় মাথা ব্যথা হলে করণীয় ১৬ টি টিপস্ এর মধ্যে অন্যতম একটি টিপস্ হলো প্রোটিন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি যেমন অন্যতম পাশাপাশি প্রোটিনের গুরুত্ব কম নয়।
নিয়মিত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে শরীরের ইমিউনিটি বুস্ট আপ হয়। ঠান্ডা লাগা, কাশি, সর্দি, জ্বর এ ধরনের ব্লু গুলো কম হয় এবং মাথা ব্যথা কমে যায়। সেজন্য প্রোটিন জাতীয় খাদ্য শীতকালে বেশি বেশি গ্রহণ করা উচিত।
১৬.মাথা ব্যথা কমানোর ঔষধ
ঠান্ডাজনিত মাথাব্যথায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন অবস্থাতেই এন্টিবায়োটিক বা পেইনকিলার জাতীয় ঔষধ খাবেন না। খুব বেশি মাথা ব্যথা হলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
উপরোক্ত টিপস্ গুলো মেনে চলুন মাথা ব্যথা কমানোর চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত মাথা ব্যথা হলে ডাক্তারের পরামর্শে নিম্নোক্ত ঔষধ খাওয়া যেতে পারে।
- এন্ট্রিহিস্টামিন (ফেক্সো, ফিক্সাল, ফেনাডিন ইত্যাদি),
- প্যারাসিটামল (নাপা, রেনোভা, এইস ইত্যাদি),
- টলফেনামিক এসিড (টাফনিল, টলফেম, মাইগেরেক্স) ইত্যাদি)।
উপসংহার
আশা করি, ঠান্ডায় মাথা ব্যাথা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা মাথা ব্যাথা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছেন। এই তথ্যগুলো সবার সাথে শেয়ার করার জন্য অনুগ্রহ করে আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিবেন। ঠান্ডায় মাথা ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে নিজেকে সতর্ক রাখুন
এই আর্টিকেল সম্পর্কে কোন মতামত থাকলে কমেন্টস বক্সে জানানোর অনুরোধ রইল। এরকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। টিপস গুলো মেনে চলুন মাথা ব্যথা মুক্ত থাকুন।
বি ঃ দ্র ঃ এই আর্টিকেলটি মাথা ব্যথা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লেখা। কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।
aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url