ভুট্টার পুষ্টিগুণ ২০ টি উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ভুট্টার পুষ্টিগুণ ২০ টি উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। জনপ্রিয় খাদ্যশস্যের মধ্যে একটি হলো ভুট্টা। ভুট্টা অনেক দেশেই প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশেও ভুট্টার কদর দিনে দিনে বাড়ছে। ভুট্টা পরিমিত পরিমাণে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় আবার বেশি পরিমাণে খেলে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
বাংলাদেশে খাদ্য শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভুট্টা অর্থাৎ ধান ও গমের পরেই দানাশস্য হিসেবে ভুট্টার অবস্থান। পুষ্টিমানে ধান ও গমের আগের অবস্থানে রয়েছে ভুট্টা। আমাদের দেশে সারা বছরই ভুট্টা পাওয়া গেলেও শীতকালেই মূলত: বেশি দেখতে পাওয়া যায়।
পেজ সুচিপত্র
ভুট্টার পরিচিতি
ভুট্টা উচ্চ ফলনশীল কর্ন জাতীয় এক প্রকার খাদ্যশস্য। এটি আমাদের দেশে ভুট্টা নামে পরিচিত হলেও কোন কোন এলাকায় কর্ন নামে পরিচিত, আবার বিশ্বের অনেক দেশেই মেইজ (Mays) নামে পরিচিত।উজ্জ্বল হলুদ বর্ণের ভুট্টাগুলো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, সুস্বাদু ও মানব স্বাস্থ্যের উপকারি একটি খাদ্যশস্য। মিষ্টি স্বাদযুক্ত, পুষ্টিগুণ ও পুষ্টিমানের কারণে "দানাশস্যের রানী" হিসেবে পরিচিত এই ভুট্টা।
ভুট্টার পুষ্টিগুণ
ভুট্টা পুষ্টিগুণ বলে শেষ করার নয়। পুষ্টিগুনে ভরপুর এই ভুট্টাতে কি নেই? একটি মাঝারি আকারের ১০০ গ্রাম ভুট্টাতে রয়েছে -
- এনার্জি বা খাদ্য শক্তি - ৮৭.৭ ৭ কিলোক্যালরি,
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা - ১৯.১ গ্রাম,
- প্রোটিন বা আমিষ - ৩.৩ গ্রাম,
- ফ্যাট বা চর্বি - ১.৪ গ্রাম,
- ডায়েটোরি ফাইবার বা আঁশ - ১৫.৩ গ্রাম,
- ভিটামিন এ,
- ভিটামিন বি,
- ভিটামিন সি,
- খনিজ পদার্থ,
- সুগার,শ
- জলীয় অংশ বা পানি,
- এন্ট্রিঅক্সিডেন্ট,
- ক্যালসিয়াম,
- ম্যাগনেসিয়াম,
- ফসফরাস,
- পটাশিয়াম,
আরও পড়ুন ঃ ব্রোকলির পুষ্টিগুণ ১৯ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা।
ভুট্টা খাওয়ার নিয়ম / কিভাবে খাওয়া যায় ভুট্টা
সন্ধ্যাবেলা বাহিরে বের হলেই দেখা যায় রাস্তার পাশে পুড়িয়ে কুড়িয়ে ভুট্টা খাওয়ার ধুম চলছে। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে পুড়িয়ে ভুট্টা খাওয়া মজাই আলাদা। যেভাবে ভুট্টা খাওয়া হয় সেগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো -
- ভুট্টা সিদ্ধ করে রান্না করেও খাওয়া যায়,
- ময়দা বানিয়ে রুটি তৈরি করে খাওয়া যায়,
- ভুট্টা ভেজে ছাতু বানিয়ে খাওয়া যায়,
- ভুট্টার খই বানিয়ে খাওয়া যায়,
- পপকর্ন হিসেবে খাওয়া হয়,
- কোন ফ্লাওয়ার হিসেবে খাওয়া যায়,
- কর্ন অয়েল হিসেবে খাওয়া যায়।
- ভুট্টা খাওয়া সবচেয়ে বেশি মজা হলো পুড়িয়ে পুড়িয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে খাওয়া।
বি ঃ দ্র ঃ ভুট্টা যেকোন ভাবে খাওয়া যেতে পারে তবে সঠিক পুষ্টিমান বজায় রাখার জন্য প্রক্রিয়াজাত ভুট্টা ও ভাঁজা ভুট্টা এড়িয়ে চলা উচিত। এতে পুষ্টিমান ঠিক থাকে না।
আরও পড়ুন ঃ কামরাঙ্গার ২১ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা।
১.ভুট্টা খাওয়ার উপকারিতা
২.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
ভুট্টার পুষ্টিগুণ ২০ টি উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব ভুট্টা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে সে সম্পর্কে। ভুট্টাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান, ভিটামিন সি ও মিনারেলস। এই উপাদানগুলোর কারণেই মূলত ভুট্টা খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, ফলে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ব্যাধি থেকে দেহ রক্ষা পায় এবং শরীর সুস্থ থাকে। শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত পরিমাণ মতো ভুট্টা খাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন ঃ মেথির ২৫ টি উপকারিতা আছে পুষ্টিগুণ ও অপকারিতা।
৩.ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে
ভুট্টার পুষ্টিগুণ ২০ টি উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব ভুট্টা খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে সে সম্পর্কে। আমরা সকলেই জানি ওজন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শুকানো খাবার বেশি খেতে হয়। তার মধ্যে একটি হলো ভুট্টা।
আরও পড়ুন ঃ তেতুলের পুষ্টিগুণ ও ২৬ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা।
ভুট্টাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্ট্রি-অক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড, ফাইবার ও ক্যারোটিনয়েড। যেগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং অল্প খেলেই পেট ভরা ভরা মনে হয়, পরবর্তী খাবার আগ্রহ কম থাকে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ও শরীর সুস্থ থাকে।
৪.দেহের শক্তি বাড়ায়
ভুট্টার পুষ্টিগুণ ২০ টি উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব ভুটা খেলে দেহের শক্তি বাড়ে সম্পর্কে। ভুট্টাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট যা দেহের দ্রুত শক্তি ও সুস্থ রাখে। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রোটিন যেগুলো যা পেশি গঠনে সহায়তা করে। যারা প্রতিদিন কাইক পরিশ্রম করেন অর্থাৎ শ্রমজীবী মানুষদের জন্য ভুট্টা ভালো একটি খাবার। ভুট্টা খেলে দ্রুত শক্তির যোগায় ও পেশি শক্তি ঠিক থাকে।
আরও পড়ুন ঃ পেঁপের পুষ্টিগুণ ও ১৯টি স্বাস্থ্য উপকারিতা।
৫.চোখের জন্য ভালো
৬.পেটের সমস্যা দূর করে
ভুট্টার পুষ্টিগুণ ২০ টি উপকারিতা খাওয়ার নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব ভুট্টা পেটের সমস্যা দূর করে সে সম্পর্কে। ভুট্টাতে বিদ্যমান আঁশ বা ফাইবার যেগুলো পেটের ব্যথা ও পেট ফাঁপা সহ বেশ কিছু সমস্যা দূর করে। ভুট্টা গ্যাস্ট্রোইনস্টাইনাল কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়।
৭.কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
৮.সর্দি-কাশি দূর করে
সর্দি-কাশি দূর করে ভুট্টা। ভুট্টা খেলে বিভিন্ন ফ্লু জাতীয় রোগ নিরাময় করে। ভাইরালের আক্রমনে যে সর্দি-কাশি বা জ্বর হয় সেগুলো নিরাময়ে যথেষ্ট কার্যকরী ভুট্টা। জ্বর-সর্দি বা কাশি হলে ভুট্টা পুড়িয়ে গরম গরম খেলে এ জাতীয় জ্বর-সর্দি বা কাশি কমে যায়।
৯.ত্বকের জন্য ভালো
ত্বকের জন্য ভালো ভুট্টা। ত্বক ভালো রাখার জন্য যে উপাদান দরকার তাহলো এ্যান্ট্রিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই। যেগুলো ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ভিটামিনগুলো ত্বকের ড্যামেজ সেল দূর করে নতুন সেল তৈরি করে। ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।
১০.হজম শক্তি বাড়ায়
হজম শক্তি বাড়াতে যথেষ্ট কার্যকরী ভুট্টা। এতে রয়েছে অদবনীয় ফাইবার বা আঁশ যেগুলো খাওয়ার পরে হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়। এতে করে পেটের এ্যাসিডিটি কমে যায়।
১১.হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে
হৃদপিণ্ড ভালো রাখে ভুট্টা। ভুট্টাতে সোডিয়ামের ও কোলেস্টেরল নাই বললেই চলে। এতে রয়েছে দ্রবন যোগ্য ফাইবার, ভিটামিন ডি৩ এবং পটাশিয়াম। যেগুলো রক্তের ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। হার্টের রোগীদের ভুট্টা আটার তৈরি রুটি খাওয়া ভালো।
১২. বার্ধক্য রোধ করে
বার্ধক্য রোধ করতে সহায়তা করে ভুট্টা। ভুট্টাতে রয়েছে ভূফেনামিক ও ফ্ল্যাভোনয়েড নামক এন্ট্রি অক্সিডেন্ট, যেগুলো ফ্রিরেডিক্যাল এর সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে ও কোলাজেন তৈরিতে সহায়ক। এ গুলো নতুন কোষ তৈরিত সহায়তা করে ও ত্বকের বলিরেখা দূর করে। ফলে ত্বক হয়ে ওঠে নরম, মসৃন, সুন্দর ও উজ্জ্বল। যার কারণে বয়স বাড়লেও তরুন বয়সের মনে হয়।
১৩,ফাইবার সমৃদ্ধ
ফাইবার সমৃদ্ধ খাদ্য ভুট্টা। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়েটরি ফাইবার বা আঁশ। ফাইবার সমৃদ্ধ ভুট্টা খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। হজম বৃদ্ধি পায়, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় মলত্যাগ সহজ হয় ফাইবার সমৃদ্ধ এই ভুট্টা খেলে ক্ষুধা কম লাগে অর্থাৎ পেট ভরা ভরা আছে মনে হয় ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
১৪.কিডনির সমস্যা দূর করে
কিডনির সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে ভুট্টা। ভুট্টাতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে যেগুলো কিডনির স্বাস্থ্য ও কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়। পরিমাণমতো ভুট্টা খেলে সকল বয়সের লোক-জনের বেশ উপকার পাওয়া যায়।
১৫.রক্ত স্বল্পতার ঝুঁকি কমায়
১৬.স্নায়ুতন্ত্রের উন্নতি ঘটায়
স্নায়ুতন্ত্রের উন্নতি ঘটাতে সহায়তা করে ভুট্টা। এতে বিদ্যমান ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৬ ও ভিটামিন বি১২ স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো করে ও এর কার্যকারিতা বাড়ায়। নিয়মিত ভূট্টা খেলে অরিন্দ্রা দূর হয় ও মানসিক স্ট্রেস কমায়।
১৭.হাড়ের গঠন মজবুত করে
হাড়ের গঠন মজবুত করে ভুট্টা। ভুট্টাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজ এবং ভিটামিন সি এর মতো উপাদান। যেগুলো হাড়ের গঠন মজবুত করে। অস্থিমজ্জার ঘনত্ব বাড়ায় ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়তা করে।
১৮.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে উপকারী। এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডায়েটোরি ফাইবার, যা গ্লুকোজ উৎপাদনের মাত্রা ত্বরান্বিত হতে দেয় না। ফলে রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য ভুট্টা জাতীয় খাবার বেশ উপকারী।
১৯.রোগ প্রতিরোধে
রোগ প্রতিরোধে ভুট্টা কার্যকারিতা অতুলনীয়। ভুট্টাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। এই ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদান গুলো দেহের দীর্ঘমেয়াদী রোগ যেমন - ব্রেস্ট ক্যান্সার, হৃদরোগ, পাকস্থলীর ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ইত্যাদি প্রতিরোধ করাতে সহায়তা করে।
২০.কোলেস্টরেল কমায়
রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের সহায়তা করে ভুট্টা। নিয়মিত ভুট্টা খেলে শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে। ফলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
ভুট্টার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- কারো কারো ক্ষেত্রে ভুট্টা খেলে অ্যালার্জি হতে পারে।
- বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফোলা ভাব বা বদহজম হতে পারে।
- ভুট্টা অধিক ক্যালরি যুক্ত একটি খাদ্য। সেজন্য বেশি পরিমাণে খেলে ওজন বেড়ে যেতে পারে।
উপসংহার
প্রিয় পাঠক বৃন্দ, ভুট্টা সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনারা বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন ভুট্টা খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা, পুষ্টিগুণ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সহ সকল বিষয় সম্পর্কে। এটি পুষ্টিকর খাবার বলেই বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে ভুট্টা খান স্বাস্থ্য ভালো রাখুন।
আশা করি, আজকের আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের ভালো লেগেছে ও উপকৃত হয়েছেন। আপনার ভালোলাগাটা আপনার প্রিয়জনের সাথে শেয়ার করার জন্য আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিতে ভুলবেন না প্লিজ। যাতে করে তারাও পড়ে ভুট্টা সম্পর্কে জানতে পারে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
বি ঃদ্র ঃ আর্টিকেলটি আপনাদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য লেখা। তথ্যগুলো সংগৃহীত।
aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url