কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। অনেকে বলেন নিয়মিত ব্রাশ না করলে দাঁত নষ্ট হয়ে যায়। আবার কারো কারো মতে বারবার মাজলেই দাঁতের বেশি ক্ষতি হয়। বিভিন্ন মতামতের মধ্যে কখন কিভাবে ব্রাশ করলে দাঁত ভালো থাকবে সেটাই প্রশ্ন। মুখ ও দাঁত ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দাঁত ব্রাশ করা বা মাজার অভ্যাস গড়ে তোলা।

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরেআজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন বিজ্ঞানসম্মত ভাবে দিনে কতবার দাঁত ব্রাশ করতে হবে? সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে, কখন ব্রাশ করলে দাঁত ভালো থাকবে? এই সকল প্রশ্নের জবাবে দন্ত বিশেষজ্ঞরা কি বলেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক সে বিষয়গুলো সম্পর্কে।

পেজ সুচিপত্র

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে

দাঁত এমন সময় ব্রাশ বা পরিষ্কার করা উচিত যেন দাঁতে বেশি সময় ধরে ময়লা বা খাদ্য কণা আটকে না থাকে। বেশি সময় ধরে ময়না বা খাদ্য কণা আটকে থাকলে দাঁতে বিভিন্ন জীবাণু তথা ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ হয়। এতে করে দাঁত নষ্ট হয়ে যায়। অকালে দাঁত ঝরে পড়ে যেতে পারে। দাঁত সুস্থ, সবল ও সুন্দর রাখার জন্য নিয়মিত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

আমার মতে দাঁত ব্রাশ করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকালে নাস্তা খাওয়ার পরে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে। বিভিন্ন দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতামত বিশ্লেষণ করে এমনটাই জানা গেছে যে সকালে খাওয়ার পরে এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা উত্তম। তবে প্রতিবারই খাবার পরে ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে যেন খাদ্য কণা দাঁতে আটকে না থাকে। দাঁত ব্রাশ সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্যগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো।

দাতুনের ব্যবহার 

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নেব দাতুন এর ব্যবহার সম্পর্কে। দাতুন হল দাঁত পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত গাছের ডাল। সাধারণত নিম গাছের ডাল বা শাখার ক্ষুদ্র অংশ কেটে নিয়ে এক পাশটা চিবিয়ে ছ্যাঁবড়া ছ্যাঁবড়া করে মুখের ভিতরে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার করা হয়। দাতুন দিয়ে দাঁত মাজাকে দাঁতন করা বলা হয়।


ধারণা করা হয় দাঁতন টুথব্রাশের পূর্বপুরুষ। শহর অঞ্চলে টুথব্রাশের আগমনের ফলে দাঁতুনের ব্যবহার কমে গেলেও গ্রাম অঞ্চলে এখনও এর ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে দাঁত মাজার জন্য নিমের ডাল ছাড়াও আম, বকুল, আটাসড়ি, বাবলা, জয়তুন, শাল, শুটি, খেজুর ইত্যাদি গাছের কচি ডাল ব্যবহার করা হয়।

টুথব্রাশের ব্যবহার

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নিব কেমন টুথব্রাশ ব্যবহার করা উচিত সে সম্পর্কে। টুথব্রাশ হচ্ছে দাঁত পরিষ্কার করার জন্য মুখে ব্যবহৃত এক ধরনের উপকরণ যা দিয়ে দাঁত ও মাড়ি পরিষ্কার করা যায়। টুথব্রাশগুলো বিভিন্ন রঙের ও বিভিন্ন আকার-আকৃতির হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন ঃ দাঁত ও মাড়ি ভালো রাখে এমন ১১ খাবার।

এই ব্রাশের সম্মুখের অংশে শক্ত করে স্তরে স্তরে সাজানো থাকে আরামদায়কে নরম তন্তু বা সিনথেটিক ফাইবার। ব্রাশের পশ্চাতে হাতলের মতো অংশ অল্প করে নড়াচাড়া করে দাঁত ও মাড়ির ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে সহায়তা করে।

কিভাবে দাঁত ব্রাশ করবেন

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এই শিরোনামটি আলোচনায় এখন আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিব কিভাবে দাঁত ব্রাশ করলে বা দাঁত মাজলে দাঁত ভালো থাকে সে সম্পর্কে। দাঁতের উপর চাপ পড়ে বা মাড়িতে আঘাত লাগে এমন ভাবে জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করা উচিত নয়

কিভাবে দাঁত ব্রাশ করবেন

ব্রাশে পরিমাণ মতো ভালো মানের পেস্ট বা মাজন নিয়ে আলতো ভাবে সকল দাঁতের ওপরে ও নিচে স্পর্শ করে এমন ভাবে ব্রাশ করতে হবে। হঠাৎ করে মাঝে মধ্যে একদিন জোরে জোরে দাঁত ঘষা-মাজা করা উচিত নয়। অনেকে ধাতব পদার্থ দিয়ে দাঁতের উপরের কালো দাগ তোলার চেষ্টা করেন। এতে করে দাঁতের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এটা করা উচিত নয়।

দিনে কতবার ব্রাশ করবেন

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নিব দিনে কতবার ব্রাশ করা উচিত এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত। বিশেষজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকদের মতে, দিন-রাত মিলে দু'বার ভালো করে ব্রাশ করাই যথেষ্ট। এই দুই সময় হলো ঘুম থেকে উঠে একবার এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার।

আরও পড়ুন ঃ  টাফনিল এর কাজ খাওয়ার নিয়ম ও সতর্কতা

তবে প্রতিবার খাওয়ার পরে ভালো করে দাঁত ও মুখ পরিষ্কার করে ধোয়া উচিত যাতে করে মুখের ভিতরে বা দাঁতের ফাঁকে কোন রকমে খাদ্য কণা আটকে না থাকে। প্রয়োজনে ডেন্টাল ক্লস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন দন্ত চিকিৎসকরা।

কি ধরনের মাজন বা পেস্ট ব্যবহার করবেন

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দেবো দাঁতের সুরক্ষার জন্য কি ধরনের মাজন বা পেস্ট ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে। দাঁতের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, যেমন - মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, পোকা ধরা, এনামেল নষ্ট হয়ে যাওয়া, দাঁতের ফাঁক ফোকরে খাদ্যকনা আটকানো ইত্যাদি।

আরও পড়ুন ঃ কলার পুষ্টিগুণ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

সমস্যাগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, সমস্যা অনুযায়ী আলাদা আলাদা পেস্ট ব্যবহার করতে বলা হয়।দন্ত চিকিৎসকদের মতে এ সকল সমস্যা দূর করে দাঁত সুন্দর ও সুরক্ষিত রাখার জন্য ফ্লুরাইড ও নুনযুক্ত মাজন বা পেস্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। সম্ভব হলে মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করতে পারেন।

কত সময় ধরে ব্রাশ করা উচিত 

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ সম্পর্কিত আলোচনা হয় এখন আমরা আপনাদেরকে জানাবো কত সময় ধরে ব্রাশ করা উচিত এ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দিনে দু'বার অন্তত দুই মিনিট সময় ধরে সকল দাঁত স্পর্শ করে এমনভাবে ব্রাশ করা উচিত। কিন্তু কখন ব্রাশ করা উচিত, সে বিষয়টি তারা স্পষ্ট করে বলেননি।

আরও পড়ুন ঃ অল্প বয়সী মেয়েরা কেন বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন?

একটি টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করা উচিত

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ শিরোনামটি আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করব দাঁত সুস্থ, সুন্দর ও সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি টুথব্রাশ কত দিন ব্যবহার করা উচিত সে সম্পর্কে।

একটি টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করা উচিত

একটি টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করা যাবে তা নির্ভর করে টুথব্রাশে ব্যবহৃত তন্তু বা সিন্থেটিক ফাইবারের মানের উপর। যদি ভালো মানের তন্তু দিয়ে টুথব্রাশ তৈরি করা হয় তাহলে সর্বোচ্চ তিন মাস একটি টুথব্রাশ ব্যবহার করা যেতে পারে। সম্ভব হলে এর আগেই টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। বলা যেতে পারে, টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট একে অপরের পরিপূরক। এই দু'য়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় টুথব্রাশিং কার্যক্রমকে সার্থক ও কার্যকরী করে দাঁত পরিষ্কার করে ও দাঁতগুলোকে সুরক্ষিত রাখে।

কত দিন পরপর ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিবেন

কখন দাঁত ব্রাশ করা উপকারী সকালে নাস্তা খাওয়ার আগে না রাতে খাওয়ার পরে এ শিরোনামটি আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিব দাঁতের সুরক্ষার জন্য কতদিন পরপর দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন যে সম্পর্কে। নিয়মিতভাবে দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর দন্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে দাঁত পরিষ্কার করলে দাঁতের ক্যালকুলাস বা টারটার (পাথর) এবং দাঁতের ক্ষতি করে এমন ব্যাকটেরিয়া দূরীভূত হয়।

উপসংহার

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, নিয়মিত ব্রাশ করে দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখার ফলে দাঁতের ক্ষয়রোগ, জিনজিভাইটিস, পেরিওডেন্টাল রোগ, হ্যালিটোসিস বা মুখের দুর্গন্ধ এবং মুখ ও দন্তজনিত অন্যান্য সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। দাঁত হলো মানব দেহের সবচেয়ে শক্ত অঙ্গ যা দিয়ে শক্ত খাদ্যবস্তুর চূর্ণ করে খাওয়া হয়।

বাংলা প্রবাদে বলে, "দাঁত ভালো যার হাঁসি সুন্দর তার" তাই দাঁত থাকতে দাঁতের মর্যাদা দিন, দাঁতের সুরক্ষায় দাঁতের যত্ন নিন। আশা করি, দাঁত ব্রাশ করা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। এরকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url