মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলটি লেখা। মাঠা দুগ্ধজাত তরল সুস্বাদু পানীয়। এ উপমহাদেশে বহু প্রাচীনকাল থেকে মাটার প্রচলন থাকলেও প্রচন্ড গরমে ও রোজার সময় এর  কদর বাড়ে এবং বিভিন্ন দই-মিষ্টির দোকানে ও ফুটপাতে বোতলে করে বিক্রি করতে দেখা যায়।

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা

দুধের তৈরি মাঠা ঐতিহ্যবাহী শরবত হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এ জাতীয় অন্যান্য দুগ্ধজাত ঘোল ও লাচ্ছির মতো পানীয় থেকে কিছুটা ভিন্ন। আজকের আর্টিকেলটি পড়লে আপনারা জানতে পারবেন মাঠার পুষ্টিগুণ, মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা এবং কিভাবে বানাবেন মাঠা এ সকল বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে।

পেজ সুচিপত্র

মাঠার পুষ্টিগুণ ও পুষ্টি উপাদান

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নেব মাঠার পুষ্টিগুণ ও পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে। যেহেতু মাঠা দুধ দিয়ে তৈরি কাজেই দূধে বিদ্যমান সকল পুষ্টিগুণ বা পুষ্টি উপাদানগুলো মাঠাতে রয়েছে। মাঠাতে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান গুলো নিম্নরূপ - 

  • এলার্জি বা খাদ্য শক্তি,
  • কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা,
  • প্রোটিন বা স্নেহ পদার্থ,
  • ফ্যাট বা চর্বি,
  • ক্যালসিয়াম,
  • ম্যাগনেসিয়াম,
  • পটাশিয়াম,
  • ভিটামিন বি ১২,
  • প্রোবায়োটিক ভিটামিন,
  • জলীয় অংশ। ইত্যাদি।
মাঠাতে বিদ্যমান এই উপাদানগুলো শারীরিক  গঠনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

মাঠা খাওয়ার উপকারিতা

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা আলোচনা করবো মাঠা খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে অর্থাৎ মাঠা খেলের মানব স্বাস্থ্যের যে উপকারগুলো হয় সে সম্পর্কে। মাঠা খাওয়ার উপকারিতাগুলো নিম্নরূপ - 

  • শরীরে এনার্জি বাড়ায়,
  • ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে করে,
  • হজম বৃদ্ধি করে,
  • গরমে শরীর শীতল রাখে,
  • প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে,
  • পিপাসা দূর করে। ইত্যাদি।

উক্ত উপকারিতাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদান করা হলো।

আরও পড়ুন ঃ ঘোল খাওয়ার উপকারিতা অপকারিতা ও ঘোলের পুষ্টিগুণ।

শরীরে এনার্জি বাড়ায় ঃ এই দুগ্ধজাত তরল পানীয়তে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যা খাওয়ার সাথে সাথেই শরীরে বাড়তি এনার্জির যোগান দেয়।

ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে করে ঃদৈনন্দিন জীবনে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার মিলিগ্রাম থেকে ১২শ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন হয়। এক গ্লাস মাঠাতে পাওয়া যায় প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম। কাজেই মাঠা খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ হয়।

হজম বৃদ্ধি করে ঃ মাঠাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোবায়োটিকস যেগুলো বদহজম দূর করে ও হজম বৃদ্ধি করে ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

গরমে শরীর শীতল রাখে ঃ মাঠার গুনাগুন বৃদ্ধির জন্য এর সাথে অনেক উপাদান যোগ করা হয়, সাথে থাকে বরফ খন্ড। শীতল ঠান্ডা এক গ্লাস মাঠা পান করলে শরীর শীতল রাখে।

আরও পড়ুন ঃ অল্প বয়সী মেয়েরা কেন বিবাহিত পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন?

প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করে ঃ দুধের সব পুষ্টি উপাদান ও প্রোটিন রয়েছে মাঠাতে। এছাড়াও কিছু কিছু গুনাগুন বেশি পাওয়া যায়। কাজেই মাঠা খেলে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ হয় ও শরীর সুস্থ থাকে।

পিপাসা দূর করে ঃ গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপপ্রদহে পিপাসায় যখন প্রাণ ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা ঠিক সেই সময় এক গ্লাস সুশীলত মাঠা খেলে পিপাসা দূর হয় এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মাঠা খাওয়ার অপকারিতা

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নিব মাঠা খাওয়ার অপকারিতাগুলো কি কি সে সম্পর্কে অর্থাৎ মাঠা ফেলে মানব সবাসথো কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে সে বিষয়গুলো সম্পর্কে।

  • স্থূলতা বেড়ে যেতে পারে, 
  • এসিডিটি হতে পারে,
  • এলার্জি হতে পারে। ইত্যাদি।

সুস্বাদু হলেও কোন কিছু অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। মাঠা অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এক ধরনের পানীয়, কিন্তু খেতে হবে পরিমাণ মতো। তাহলে ক্ষতির চেয়ে উপকার বেশি পাবেন।

আরও পড়ুন ঃ যে ১৪ রকম পানীয় বা জুস গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য খুব উপকারী।

স্থূলতা বেড়ে পারে ঃ মাঠাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন। ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান। যেগুলো বেশি পরিমাণে খেলে শরীরের মেদ-চর্বি বেড়ে গিয়ে ওজন বেড়ে যেতে পারে অর্থাৎ স্থূলতা বেড়ে যেতে পারে।

এসিডিটি হতে পারে ঃ বেশি পরিমাণে মাঠা খাওয়ার ফলে অনেকেরই এসিডিটি, অম্বল বা বদহজম বেড়ে যেতে পারে।

এলার্জি হতে পারে ঃ অনেকেরই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বা মাঠা খেলে এলার্জি বেড়ে যেতে পারে। ফলে এলার্জির মতো ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারেন।

মাঠা কিভাবে বানাবেন

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নিব মাঠা কিভাবে বানাবেন সে সম্পর্কে অর্থাৎ মাঠা তৈরির রেসিপি সম্পর্কে। মাঠা তৈরি করা হয় মূলত জাল করা গাড়ো দুধ (গরুর খাঁটি দুধ) বা মাখন দিয়ে। মাঠা তৈরীর জন্য নিম্নোক্ত উপকরণগুলো প্রয়োজন হয়।

মাঠা কিভাবে বানাবেন
  • গাড়ো দুধ বা মাখন বা টক দই (পরিমাণ মতো),
  • চিনি (পরিমাণ মতো),
  • লবণ বা বীট লবণ (পরিমাণ মতো),
  • ভাজা জিরার গুঁড়া (প্রয়োজনে),
  • পানি,
  • লেবুর রস,
  • চূর্ণ করা বরফ খন্ড। ইত্যাদি।

প্রথমে গাড়ো দুধ বা মাখন বা টক দই ও চিনি একসাথে মিশিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে একদম তরল করে ফেলতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে পরিমাণ মতো পানি ও লবণ মিশিয়ে পুনরায় ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়ে গেলে এর স্বাদ বৃদ্ধির জন্য পরিমাণ মতো লেবুর রস মিশালেই তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু মাঠা। এবার শীতল করার জন্য অল্প পরিমাণে চূর্ণ করা বরফ খন্ড মিশিয়ে খাওয়ার জন্য পরিবেশন করতে হবে। এভাবেই তৈরি করা হয় সুস্বাদু মাঠা।

মাঠা ও ঘোলের পার্থক্য

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনায় এখন আমরা জেনে নেব মাঠা ও ঘোলের মধ্যে পার্থক্য কি সে সম্পর্কে, যদিও দুইটি পানীয়ই দুগ্ধজাত পণ্য। মাঠা ও ঘোল দুটি দুগ্ধজাত পণ্য হলেও এর মধ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন - 

আরও পড়ুন ঃ গ্রীন টি খাওয়ার ১২ টি উপকারিতা অপকারিতা পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা।

  • গাড়ো দুধ বা টক দই বা মাখনের সাথে চিনি ও অন্যান্য কিছু মসলা মিশালেই তৈরি হয় মাঠা অপরদিকে ঘোল তৈরি হয় পাস্তুুরিত বা ঘনিভূত দুধ থেকে ছানা অপসারণ করার পরে দুধের যে দলীয় অংশ থাকে সেগুলো দিয়ে।
  • মাঠা সব সময় গাড়ো প্রকৃতির হয় অপরদিকে ঘোল সব সময় পাতলা হয়।
  • মাঠাতে চিনি ও বিভিন্ন মসলা মেশানোর কারণে এর স্বাদ হয় একটু মজাদার এবং মাখনের মতো অপরদিকে ঘোল টক-মিষ্টি ও হাল্কা স্বাদযুক্ত।
  • মাঠা শরীরের ক্লান্তি দূর করে ও এনার্জি যোগায় অপরদিকে তীব্র তাপে ভ্যাপসা গরমে ঘোল খেলে শরীর সতেজ ও  শীতল হয় এবং শক্তি আসে।

পার্থক্য যেটুকুই থাকুক মাঠা ও ঘোল দুটোই দুগ্ধজাত পানীয়। উভয় শরীরের জন্য যথেষ্ট উপকারী।

মাঠা ও লাচ্ছির মধ্যে পার্থক্য

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা আপনাদেরকে জানিয়ে দিব মাঠা ও লাচ্ছির মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে। মাঠা ও লাচ্ছি দুগ্ধজাত পানীয় হলেও পুষ্টি ও উৎপাদনগত কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। মাঠা ও লাচ্ছির মধ্যে পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ - 

আরও পড়ুন ঃ বদহজম বা পেট ফাপা দূর করার সহজ ১৪ টি ঘরোয়া উপায়।

  • মাঠা ঘন দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় অপরদিকে লাচ্ছি শুধু মাত্র দই দিয়ে তৈরি করা হয়।
  • মাঠাতে যে পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে তার চেয়ে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম লাচ্ছিতে পাওয়া যায়। 
  • দুধ খেলে এলার্জি হওয়ার কারণে অনেকেই দুধের তৈরি মাঠা খেতে পারেন না অপরদিকে লাচ্ছি খেলে এ ধরনের সমস্যা হয় না।
  • মাঠাতে ক্যাসিন নামক প্রোটিন থাকে অপরদিকে লাচ্ছিতে এই প্রোটিন থাকে না।
  • মাঠার পুষ্টিগুণ লাচ্ছির পুষ্টিগুণের চেয়ে কম হয়।
  • চিনিসহ অন্যান্য মসলা মেশানোর কারণে মাঠার স্বাদ লাচ্ছির স্বাদের চেয়ে বেশি হয়।

উপরোক্ত আলোচনা-পর্যালোচনা থেকে বুঝা যায় যে স্বাদ যেরকমই হোক না কেন? মাঠা ও লাচ্ছি দুটোই মানব স্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট উপকারী।

যাদের মাঠা খাওয়া উচিত নয়

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা আলোচনায় এখন আমরা জেনে নিব যাদের মাঠা খাওয়া উচিত নয় সে সম্পর্কে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের মাঠা খাওয়া উচিত নয়।

যাদের মাঠা খাওয়া উচিত নয়
  • মাঠা, দুধ দ্বারা তৈরি সুতরাং দুধে এলার্জি হয় এমন ব্যক্তিদের মাঠা খাওয়া উচিত নয়।
  • মাঠার স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য এতে লবণ মেশানো হয়। লবণ মিশ্রিত মাঠা হাইপার টেনশনের রোগীদের খাওয়া উচিত নয়।
  • চিনি মিশ্রিত মাঠা ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে সুগার বেড়ে যেতে পারে, সেজন্য ডায়াবেটিস রোগীদের চিনি মিশ্রিত মাঠা খাওয়া উচিত নয়।
  • পেপটিক আলসারের রোগীদের মাঠা খাওয়া উচিত নয়। (পেটের অন্যান্য সমস্যা থাকলে মাঠা খেলে উপকার পাওয়া যায়)।
  • লবণ মিশ্রিত মাথা কিডনি রোগীদের জন্য খাওয়া উচিত নয়। 
  • ডাক্তারের পরামর্শক্রমে কিডনি রোগীরা লবণ ছাড়া পরিমাণ মতো  মাঠা খেতে পারবেন।

মাঠা কি বা মাঠা কাকে বলে

মাঠা দুগ্ধজাত বা দুধ থেকে তৈরি এক ধরনের সুস্বাদু পানীয়। গরুর খাঁটি দুধ দীর্ঘ সময় ধরে জাল করার পরে ঘন ও গাড়ো আকার ধারণ করে। এই দুধ ঠান্ডা করে তার সাথে চিনিসহ প্রয়োজনীয় মসলা মিশালে যে সুস্বাদু পানীয় তৈরি হয় সেটি হল মূলত: মাঠা। দীর্ঘ সময় ধরে জাল দিয়ে গরম করার কারণে মাঠার রঙ কফি কালারের হয়ে থাকে। মাঠাতে দুধের সকল পুষ্টিগুণ ও পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। মাঠা খেতে দুধের চেয়ে সুস্বাদু। অনেক অঞ্চলে মাঠাকেই ঘোল বলা হয়।

মাঠা এত জনপ্রিয় কেন 

মাঠার পুষ্টিগুণ এবং মাঠা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কিত আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা জেনে নেব মাঠার এত জনপ্রিয় কেন সে সম্পর্কে। মাঠা মূমত জনপ্রিয় এর সুস্বাদ ও সুঘ্রাণের  জন্য। দুগ্ধজাত দ্রব্য অন্যান্য মিষ্টান্ন খাদ্য যেমন - কাঁচাগোল্লা, রসগোল্লায়, চমচম, দুধসর ইত্যাদি মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গুলোর তৈরি হয় ছানা দিয়ে। কিন্তু মাঠার স্বাদ এবং গন্ধটাই আলাদা। সেজন্য যে কেউ একবার খেলেই আবার খেতে ইচ্ছে করে স্বাদ এবং সুঘ্রাণ যুক্ত মাঠা।

মাঠা কোথায় পাওয়া যায় 

দুধের তৈরি খাদ্যদ্রব্যের মধ্যে মাঠা অন্যতম। সবচেয়ে ভালো এবং খাঁটি মাঠা পাওয়া যায় পুরান ঢাকা, পাবনার বেড়া, সিরাজগঞ্জের সলপ ইউনিয়ন এবং নারায়ণগঞ্জে। এই এলাকাগুলোতে প্রচুর দুগ্ধ খামার রয়েছে। এই খামারে দুধ সংগ্রহের পরে দুধগুলো বিশেষ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তৈরি করা হয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর মাঠা। এই এলাকাগুলো ছাড়াও বর্তমানে বিভিন্ন মিষ্টির দোকানে ও ফুটপাতে বোতলজাত করে মাঠা বিক্রি করা হয়।

মাঠার দাম কেমন

গরুর খাঁটি দুধকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াকরণ করে মাঠা তৈরি করা হয়। সেজন্য মাঠা তৈরিতে প্রচুর পরিমাণে দুধ প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন দোকানে মাঠার দাম জানতে চেষ্টা করলাম এবং তারা জানালেন মাঠার দাম প্রায় দুধের দামের ডবল অর্থাৎ এক লিটার দুধের দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা হলে এক লিটার  মাঠার দাম প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। তবে এই দামগুলো নির্ভর করে দুধের পিউরিটি এবং ঘনত্বের উপর।

উপসংহার

প্রিয় পাঠক বৃন্দ, মাঠা সম্পর্কিত আজকের আর্টিকেলটি পড়ে মাঠা সম্পর্কে সকল তথ্যগুলো বিশেষ করে মাঠার পুষ্টিগুণ, উপকারিতা, অপকারিতা ও মাঠার প্রস্তুত প্রণালী ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন ও উপকৃত হয়েছে বলে আমি মনে করি। নিয়মিত প্রতিদিন পরিমাণমতো মাঠা খেলে শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং দেহে এনার্জি আসে।

আশা করি, মাঠা সম্পর্কিত এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনাদের বাস্তব জীবনে উপকারে আসবে। আর এরকম আরো আপডেট তথ্য পাওয়ার জন্য চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন। আর হ্যাঁ বিদায় বেলা আর্টিকেলটি শেয়ার করে দিন যেন আপনার নিকটজনেরা এ সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে পারে। আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

aksgreenit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url